জেলা পরিষদে নির্বাচিতরা উপেক্ষিত : পদমর্যাদা ও কর্মপরিধি নির্ধারণ হবে কখন?

রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৯

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে জেলা পরিষদকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয় সরকার। স্বাধীনতার পর দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে নির্বাচনের কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদমর্যাদা ও কর্মপরিধি চূড়ান্ত হয়নি এখনো। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। বিষয়টি এভাবে আর কতদিন ঝুলে থাকবে? নির্বাচিতদের কর্মপরিধি নির্ধারণ না হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নানা অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি সামনে আসার পর জেলা পরিষদকে কার্যকর করার বিষয়টি ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। গতকাল ভোরের কাগজে জেলা পরিষদের হালচাল নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চাওয়া-পাওয়াসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তাদের কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনা উচিত। আমরা মনে করি, সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ কার্যকর করতে পারলে দেশের স্থানীয় সরকারের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে। জানা যায়, তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে মানুষের সেবা ও উন্নয়নে জেলা পরিষদের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব হবে প্রতিটি উন্নয়নকাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা এবং নিজ নিজ জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা খুঁজে বের করা। কী করলে সেই জেলার আরো উন্নতি হতে পারে, সেদিকে দৃষ্টি দেয়া’। কিন্তু জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও তারা স্থানীয় উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এর মূল কারণ তাদের পদমর্যাদা ও কর্মপরিধির বিষয়টি আইনে স্পষ্ট না থাকা। গত জুলাই মাসে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দেয়াসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা। দফাগুলোর অগ্রগতি কী আমাদের জানা নেই। জেলা পরিষদ উপমহাদেশের স্থানীয় শাসন ও উন্নয়নের ইতিহাসে ১৩০ বছরের উত্তরাধিকার বহন করে। জেলা প্রশাসন সৃষ্টির (১৭৭২) ১১০ বছর পর ১৮৮২ সালে লর্ড রিপনের ঐতিহাসিক রেজুলেশনের মাধ্যমে তিন স্তরের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়। তাতে স্থানীয় ‘জেলা বোর্ড’ অত্যন্ত শক্তিশালী প্রশাসনিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের প্রথম দশক পর্যন্ত ওই পদ্ধতি বজায় ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জেলা পরিষদের সুরম্য ভবন, জনবল, প্রচুর নিজস্ব সম্পদ ও জাতীয় বাজেটের নিয়মিত বরাদ্দ সত্ত্বেও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি রহস্যজনক কারণে আড়ালে পড়ে যায়। স্বাধীনতার পর প্রথম বর্তমান সরকারের অধীনে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দ্রুত নির্বাচিতদের পদমর্যাদা ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করুন। জেলা প্রশাসন কেবলই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোনির্ভর, জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই। জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমলাতন্ত্রের পাশাপাশি নাগরিক প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কাজে লাগানোর সুযোগ দিতে হবে। এতে করেই গ্রামীণ উন্নয়নের ছাপ আমরা দেখতে পাব।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj