জগন্নাথপুরের কালাম্বরপুর বিদ্যালয় : শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

রিয়াজ রহমান, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে : উপজেলার আশারকান্দী ইউনিয়নের কালাম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ১২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান।

সহকারী শিক্ষিকা শিমতা রানী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ভবনের সংকটের বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ভূমি সংকটের কারণে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে কালাম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১০ শতক ভূমির উপর অবস্থিত। বিদ্যালয়ে একটি টিনশেড ভবনে ৪টি কক্ষের মধ্যে ৩টি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ১টি কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইতোমধ্যে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করতে ব্যবহার করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস রুম। প্রয়োজনীয় ভবন না থাকায় প্রথম শ্রেণির কক্ষে একসঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক শাখার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। একজন শিক্ষক ডেপুটিশনে নিয়োগ দেয়ায় দুই জন শিক্ষক দিয়েই কোনো রকম পাঠদান চলছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিমতা রানী বলেন, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঠদানসহ অফিসিয়াল সব কার্যক্রম আমাকেই সম্পন্ন করতে হচ্ছে। ভূমি সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

স্কুল কমিটির সভাপতি মো. মাছুম আলী জানান, বিদ্যালয়ের ভূমি সংকটের কারণে ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। স্কুলের এই সমস্যার কথা এক লন্ডন প্রবাসীকে জানানোর পর তিনি স্বেচ্ছায় তার মালিকানা ভূমি স্কুলের জন্য দান করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আমরা স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ভূমি দানের বিষয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ করছি।

কালাম্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মহিবুর রহমান জানান, স্কুলের ভূমির সমস্যার বিষয় আমার নিকট আত্মীয় যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজি মো. ওয়াছিদ খান ও তার সহধর্মিণী মোছা. ফাতেমা বেগমের সঙ্গে আলোচনা করি। তারা বিদ্যালয়ে জমি দান করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভূমিটি স্কুলের নামে দানপত্র করে দিতে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবদীন বলেন, ভবন ও শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে। আর কেউ যদি স্বেচ্ছায় স্কুলের নামে ভূমি দান করতে চায় তাহলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj