কমলগঞ্জে পলো বাওয়া উৎসব

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ উপজেলার বুক দিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রবাহমান ছোট ছোট ছড়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে শুরু হয়েছে পলো বাওয়া উৎসব। প্রতি বছর এ সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মৎস্য শিকারিরা দল বেঁধে উৎসবমুখর পরিবেশে পলো বাওয়ায় অংশগ্রহণ করে। পলো বাওয়া উৎসব হলো দল বেঁধে (বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ঝাঁপি) মাছ ধরা।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের ধলাই নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব উদযাপিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ধলাই নদীতে এই মৎস্য আহরণ শুরু হয়। এতে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

কমলগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কুমড়াকাপন, আলেপুর, চণ্ডিপুর, কুমড়াকাপন এসব গ্রামের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। কমলগঞ্জের খাল-বিল ও নদী-নালার পানি কমতে শুরু করেছে। কমলগঞ্জের ফসলি মাঠগুলো এখনো হয়ে উঠেনি আবাদের উপযোগী। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকের হাতে নেই তেমন কোনো কাজ। এ অবসরে অল্প পানিতে মাছ শিকারের উৎসবে মেতে উঠেছে সবাই। ধলাই নদীর স্বল্প পানিতে এখন বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দল বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পলো, উড়াল জাল, পেলেন জাল এসব দিয়েই মাছ শিকার করছেন মানুষরা। দলবদ্ধভাবে মাছ শিকারের এ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। উৎসবে অংশ নেয়া মানুষদের উৎসাহ দিতে হাতে তালি কিংবা জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে উৎসাহ প্রদান করেন দর্শনার্থীরা। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও যে যার মতো করে মাছ ধরতে সহযোগিতা করে। মাথা ও কোমরে আটসাট করে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই মাছ ধরছেন সবাই। আলেপুর গ্রাম থেকে আসা নূর মিয়া বলেন, বছরের এই দিনটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। সবাই মিলে এক সঙ্গে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। এক কেজি ওজনের একটি গাঘট মাছ পেয়ে আরো বেশি আনন্দ লাগছে। কমলগঞ্জের প্রবীণ মাছ শিকারি মো. ইসমাইল মিয়া জানান, নদী-নালা, খাল-বিল, হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি হ্রাস এবং অধিকাংশ জলাশয় ইজারা দেয়ায় পলো উৎসব এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে।

অভাব-অনটন ক্রমশ গ্রাস করে ফেলছে চিরাচরিত এই গ্রামীণ উৎসবের অতীত ঐতিহ্যকে। তার মতে প্রাচীন এই উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে সর্বমহলের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj