গুরুদাসপুরে হরিজনদের বঞ্চনার শেষ নেই

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

মো. মাজেম আলী মলিন, গুরুদাসপুর (নাটোর) থেকে : অসচ্ছলতা, আবাসন সংকট, চিকিৎসার অভাবসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত গুরুদাসপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ। দরিদ্রতার কারণে এই সম্প্রদায়ের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকেও বঞ্চিত। অসচেতনার কারণে বাড়ছে জনসংখ্যা।

হরিজন সম্প্রদায় গুরুদাসপুর পৌরসভাসহ পুরো শহরের শ্রীবৃদ্ধির জন্য কাজ করলেও নিজেদের ভাগ্য যেন রয়ে গেছে শ্রীহীন। বাসাবিহীন কোকিলরা যেমন ওদের মিষ্টি সুরে গান গেয়ে মাতোয়ারা করে রাখে গোটা প্রকৃতিকে, তেমনি হরিজন সম্প্রদায় পুরো শহরটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখে আপন মহিমায়। অথচ বসবাস করার এক চিলতে খাস জমিতে ঠাঁই পেলেও তাদের নেই কোনো বাসযোগ্য ঘরবাড়ি। পৌরসভায় এদের অধিকাংশ লোক কর্মরত থাকলেও পৌর শহরের বাইরে ১৯ শতাংশ খাস জমিতে গাদাগাদি করে বাস করছে ২৪টি পরিবারের ১৪৪ জন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ।

নারী শ্রমিক বেলী বাঁশফোর (৪২) জানান, ১০ ফুট বাই ১৪ ফুটের ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঘরে স্বামী জিতেন বাঁশফোর (৪৮), দুই ছেলে (২০), স্ত্রী মিনা, ৬ মাসের নাতি জোসেফ এবং ছোট ছেলে অন্তর (১১) এবং দুই মেয়ে পূজা ও পূর্ণিমাসহ ৮ জন একত্রে বসবাস করছেন একটি ঘরে। বেলী আরো জানান, মান-ইজ্জত নিয়ে এভাবে বেঁচে থাকা যায় না। একই আয়তনের পাশের ঘরে স্ত্রী পুতলী বাঁশফোরকে (২৮) নিয়ে বসবাস করে স্বামী প্রদীপ বাঁশফোর (৩২)। ওই একই ঘরে থাকে তার দুই মেয়ে ১৬ বছরের রেখা, ১২ বছরের দীপালী, ৬ বছরের ছেলে দীপ ও ৪ বছরের ছেলে শিপন।

মিন্টু বাঁশফোরের মেয়ে স্থানীয় ড. সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়–য়া বৃষ্টি (১৭) জানায়, হরিজন সম্প্রদায়ের নারীরা বেশি অবহেলিত। তাদের সমাজেও নারীদের অবস্থান সেভাবে মূল্যায়িত হয় না। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। ওই পল্লীরই বাসিন্দা স্বদেশ বাঁশফোরের কলেজ পড়–য়া মেয়ে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের ছাত্রী অনিতা (১৭) জানায়, আমাদের অধিকার বলে কিছু নেই। তথা কথিত ‘সভ্য মানুষ’রা আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের পুরুষরাও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। ষাটোর্ধ্ব এক নারী বলেন, সেয়ানা (প্রাপ্ত বয়স্ক) ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের সঙ্গে এক সঙ্গে ঘুমাতে চায় না। রাত হলেই তাই চোখে জল নেমে আসে। এক কক্ষের ঘরে গরু-ছাগলের মতো বসবাস করি আমরা। সরকার থেকে যদি আমাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আমাদের কষ্টটা কিছুটা হলেও লাঘব হতো।

গুরুদাসপুর উপাজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, একই ঘরে একাধিক সদস্য বাস করার বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করব। তা ছাড়া ওই গোষ্ঠীর সন্তান যারা লেখাপড়া করছে, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj