ঝাটকা ইলিশে সয়লাব আমতলীর মাছ বাজার

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

হারুন-অর রশিদ, আমতলী (বরগুনা) থেকে : ইলিশ মাছের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে ইলিশ মাছ উঠতে শুরু করেছে। গত ৪-৫ দিন ধরে আমতলী পৌর শহরের মাছ বাজার ঝাটকা ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে।

সরেজমিন গত বৃহস্পতিবার পৌর শহরের নতুন মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঝাটকা ইলিশে বাজার সয়লাব। ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার সময় গোপনে যেসব জেলে নদী ও সাগর থেকে ঝাটকা ইলিশ ধরেছে সেসব মাছ এখন বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে। এ ছাড়া সমুদ্র উপক‚লবর্তী তালতলী, কুয়াকাটা, মহিপুর, কুয়াকাটা, চালিতাবুনিয়া, মৌডুবী, বাইশদা ও রাঙ্গাবালী থেকে আমতলী মাছ বাজারে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বিক্রির জন্য জেলেরা নিয়ে আসেন। বাজারে এখন যে ঝাটকা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তার অধিকাংশ সাগর থেকে ধরা হয়েছে বলে মাছ বিক্রেতারা জানান।

আমতলী মাছ বাজারে সকালে ও সন্ধ্যার আগে মানুষের সমাগম বেশি থাকে। বাজারে প্রচুর পরিমাণে ঝাটকা ইলিশ সরবরাহ লক্ষ করা গেছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতি কেজি ঝাটকা ইলিশ ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ওজনে প্রতি কেজিতে ৫-৬টি ঝাটকা ইলিশ পাওয়া যায়। আবার অনেক বিক্রেতা ভ্যানে মাইকিং করে শহর ও গ্রামে ঘুরে ঘুরে ঝাটকা ইলিশ বিক্রি করছেন।

তা ছাড়া ঝাটকা ইলিশের দাম কম থাকায় স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আমতলী বাজারে এসে তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। চাওড়া ইউনিয়নের তালুকদার বাজারের মনু মিয়া ৫ কেজি ঝাটকা ইলিশ ২০০ টাকা দরে কিনেছেন। আমতলী ইউনিয়নের কড়ইবুনিয়া গ্রামের জালাল হাওলাদার ২৫০ টাকা কেজি দরে ৭ কেজি ঝাটকা ইলিশ কিনেছেন। তিনি আরো জানান, অন্যান্য সময় এ মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হতো। বরগুনা যাওয়ার পথে পথচারী গৃহিণী ঝুমা বেগম ৫ কেজি ঝাটকা ইলিশ কিনেছেন। তিনি জানান, ২২০ টাকা কেজি দরে তিনি এ মাছ কিনেছেন। পাইকারি মাছ বিক্রেতা আ. বারেক বলেন, আমতলী মাছ বাজারে উপক‚লবর্তী তালতলী, কুয়াকাটা, মহিপুর, কুয়াকাটা, চালিতাবুনিয়া, মৌডুবী, বাইশদা, রাঙ্গাবালীর জেলেরা মাছ নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার সময় যেসব জেলে নদী ও সাগর থেকে গোপনে ঝাটকা ইলিশ ধরেছে সেসব মাছ এখন বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে। এ জন্য বাজারে ঝাটকা ইলিশে সয়লাব। মাছ বাজারের অপর খুচরা বিক্রেতা মো. রুবেল মিয়া জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় অনেক জেলে লুকিয়ে মাছ ধরেছে। ওই সব মাছ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বরফজাত করে পেটিতে মজুদ করে লুকিয়ে রেখেছিল। ওই সব ঝাটকা ইলিশ এখন বাজারে আসছে। এ কারণে বাজারে ঝাটকা ইলিশের সরবরাহ বেশি।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজারে ঝাটকা ইলিশে সয়লাব, সেটা আমিও শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি বাজারে কোনো মাছ বিক্রেতা যদি ঝাটকা ইলিশ বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj