কলাপাড়ায় প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় দেশসেরা জুলিয়া নাসরিন

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

এস কে রঞ্জন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে : পটুয়াখালীর কলাপাড়া এলাকায় যখনই কোনো অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় হয় তখনই তিনি ছুটে যান ওই নারীর পাশে। নিরাপদ ডেলিভারিসহ গর্ভপরবর্তী নারীর পরিচর্যা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় তার খ্যাতি এখন দেশজুড়ে। কারণ প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য কলাপাড়ার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলী পাড়া কমিনিউটি ক্লিনিকে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জুলিয়া নাসরিন এ বছর বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। পেয়েছেন সেরা চাইল্ড স্কিল বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিবিএ) পুরস্কার। গত ৪ নভেম্বর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্রান্ড বল রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকারী বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৪ জন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসব হয়েছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত ২৩২ জন গর্ভবতী মা স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এই ক্লিনিকটি এখন দেশসেরা। এ জন্য আমতলীপাড়া ক্লিনিককে এ সম্মান দেয়া হয়েছে। তবে ক্লিনিকটির এমন সাফল্যের পেছনে জুলিয়া নাসরিনের অবদান সবচেয়ে বেশি। সন্তান প্রসবকালীন তার হাতে এখন পর্যন্ত কোনো গর্ভবতী মা মারা যাননি। এমনকি মৃত নবজাতকও প্রসব হয়নি। জানা গেছে, জুলিয়া নাসরিন পটুয়াখালী নার্সিং ইনস্টিটিউট ও গোপলগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে কমিউনিটি স্কিল বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলী পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে যোগ দেন। তার যোগদানের পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে ওখানকার প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার চিত্র। স্থানীয়রা জানান, সন্তানসম্ভবা মায়েরা ওই ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য গেলে তিনি তাদের পরামর্শ ও সেবা প্রদান করেন। এ জন্য সে এলাকায় তিনি স্বাস্থ্য আপা নামে পরিচিত। জুলিয়া নাসরিন বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমি আজ এ পুরস্কার পেয়েছি। আমি মনে করি আমার মতো সব সহকর্মী প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় আন্তরিক হলে দেশের মাতৃত্বকালীন মৃত্যু হার অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি সিজারিয়ান পদ্ধতির প্রতি মানুষ আগ্রহ হারাবে।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, জুলিয়া নাসরিন প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের গর্ব। তার নিরলস পরিশ্রম প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের এ সাফল্য এনে দিয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj