নক্ষত্ররা কি করে তৈরি হয়েছিল

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

আকাশে চাঁদ সূর্য ছাড়া চলতি কথায় আমরা সব কিছুকেই তারা বা নক্ষত্র বলি। আসলে এরা সবাই মিটমিট করলেও প্রত্যেকেই তারা নয়। তারা বা নক্ষত্র হলে তাদের নিজেদের আলো থাকে। তাই আমাদের খালি চোখে যাদের দেখতে পাই তাদের মধ্যে আমাদের চেনা পরিচিত সূর্যই একমাত্র নক্ষত্র। গ্রহরাও চকচক করে বটে, তবে সে আলো তো তাদের নিজেদের নয়, সূর্যের আলো পড়ে ওদের অমন জ্যোতিষ্মান করে তোলে। জানই তো আমাদের চাঁদ নিজে থেকে কোনো আলো দেয় না। সূর্যের আলো পড়ে তবেই তা আমাদের পৃথিবীতে প্রতিফলিত হয়। গ্রহদের ব্যাপার তোমার জানা আছে যে তারা এক সময় সূর্য থেকে আলাদা হয়ে সৌরমণ্ডলের সদস্য হয়েছে। আচ্ছা, তাহলে বলতে পার নক্ষত্ররা এলো কোথা থেকে?

নক্ষত্রদের জন্ম মহাকাশের বুকে ছড়ান ছিটান গ্যাস আর অন্যান্য অনুকণা থেকে। এরা এক সময় নিজেরা মধ্যাকর্ষণ শক্তির চোটে গুটিয়ে আসতে থাকে। চারপাশ থেকে কেন্দ্রের আকর্ষণে গ্যাস ও অন্যান্য সব কিছু বর্তুলাকার পেতে থাকে। আর নক্ষত্র হয়ে ওঠার জন্য গ্যাসের আর অনুকণাদের ওজন সূর্যের চাইতে হাজার হাজার গুণ বেশি হওয়া দরকার। বুঝতেই পারছ চাপের ফলে এদের সংকোচন হওয়ার মানে হলো ভেতরের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। গরম যখন আবার বাইরে বের হতে চায় তখন তার ফলে বাইরের পুঞ্জীভূত মেঘ আরো সংকুচিত হতে থাকে। এই ভাঙা আর সংকোচনের ফলে সব বস্তুপিণ্ড ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রতিটি কণা তখন আলো আর তাপ দুই-ই বিচ্ছুরণ করতে থাকে।

সংকোচন হতেই থাকে এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রস্থলে কোটি কোটি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপ উৎপন্ন হয়। আর এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আণবিক তাপীয় প্রতিক্রিয়া ঘটতে থাকে। এটা অনেকটা হাইড্রোজেনের চারটে নিউক্লিয়াস একটা হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের জন্ম দেয়। এই প্রতিক্রিয়ার ফলে নক্ষত্র থেকে শক্তির বিচ্ছুরণ হতে থাকে। যতদিন পর্যন্ত নক্ষত্রের অভ্যন্তরে হাইড্রোজেনের পরিমাণ শতকরা দশ ভাগ না হয়ে যায়, ততদিনই হলো নক্ষত্রের আয়ু। অবশ্য আয়ু বলতে তাও হাজার হাজার কোটি বছর। আমাদের সূর্য হলো এমনই একটি নক্ষত্র আর এর পেটের ভেতর এই সব ঘটে চলেছে অহরহ। মনে হয় সূর্য দশ বিলিয়ন বছর টিকে থাকবে। সবে তো এর আধকানা আয়ু সমাধা হয়েছে। গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj