১৬ ডিসেম্বরের আগেই রাজাকারদের তালিকা

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

এম নজরুল ইসলাম, গাজীপুর থেকে : আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগেই রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুরের রথখোলায় বঙ্গতাজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১৫ হাজার দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে ঘরবাড়ি করে দেয়া হবে, যার প্রত্যেকটির মূল্য হবে ১৫ লাখ টাকা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আগামী জানুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্র দেয়া হবে। পরিচয়পত্রের পেছনে তারা কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা লেখা থাকবে। আগামী জানুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সব কবর একই ডিজাইনে করে দেয়ার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বিসিএস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের ভূমিকা নিয়ে লেখা সংযুক্ত করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে অসন্তোষ আছে। যা হওয়া উচিত তা হয়নি। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পূর্তির বছর ২০২০ সালে তা পূরণ করা হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মো. রশিদুল আলম। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন সবুজ। অনুষ্ঠানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও বর্তমানে তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির জন্য আমাদের প্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগকে ছাড় দেয়া হয়নি। জাতির কাছে এই ম্যাসেজ পরিষ্কার। ঘরের লোকদের আমরা প্রথমে শায়েস্তা করেছি। এরপর ব্যাপকভাবে সব সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অর্থাৎ সরকারের অধীনে সব প্রতিষ্ঠানে ও ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেরপুর জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলাম হিরু বলেন, তারা তাদের ভাতা বৃদ্ধিরও অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আমলারা। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনটির কার্যক্রম নিজেরাই পরিচালনার জন্য তারা নির্বাচন দাবি করেছেন।

নেত্রকোনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মো. নুরুল আমিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিনি আমাদের আদর্শের পিতা। প্রধানমন্ত্রী আদর্শের বোন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি এবং চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের কোটা পুনর্বহালের দাবি জানান।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj