কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : ভর্তি পরীক্ষার্থীদের আশ্রয় পুলিশ ব্যারাকে

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

এম ফিরোজ মিয়া, কুমিল্লা থেকে : পুলিশ জনতার সেবক ও বন্ধু শুধু কথায় নয়- কাজেও প্রমাণ করলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই গভীর রাতে আসার কারণে তারা রাতযাপনের ক্ষেত্রে নানা প্রতিক‚লতার সম্মুখীন হন। বেশির ভাগ আবাসিক হোটেলেই রুম বুকিং হয়ে আছে। শীতে রাতভর বাইরে ঘুরতে হচ্ছিল অনেককে। আর তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পুলিশ লাইন্সের ভেতর নবনির্মিত ছয়তলা নামের ব্যারাকটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের থাকার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। উদ্যোগটি নিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গতকাল রাত থেকে আসতে শুরু করেছেন ব্যারাকে। শুধু নিরাপদে থাকাই নয়, শিক্ষানুরাগী এই মানুষটির নির্দেশনায় তাদের মাঝে কম্বল, মশার কয়েল, খাবার পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে দিতে দেখা যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের সদস্যদের।

আজ থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু । শুক্রবার ‘এ’ ও ‘বি’ এবং শনিবার ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদারসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা এবং পুলিশ প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ‘এ’ ইউনিটের, বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষার কেন্দ্র করা হয়েছে। এদিকে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষার্থীদের বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ভর্তি পরীক্ষা কমিটি। জনসংযোগ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার নিরাপত্তার স্বার্থে পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মুখমণ্ডল ও কান খোলা রাখতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, সানগøাস, সিম-ক্রেডিট কার্ড বা কোনো প্রকার ইলেকট্র্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রে তালিকাভুক্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষ দায়িত্বরত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের মূল ফটক দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় তাদের তল্লাশি করা হবে। এ ছাড়া কেন্দ্র ও বাইরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব ও সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউট নিয়োজিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় আইনশৃৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রক্টোরিয়াল বডির পাঁচটি টিম কাজ করবে। র‌্যাগিংসহ যে কোনো অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি রোধে প্রতি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চারজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে কুবির প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন ৬৫ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এ শিক্ষাবর্ষে ছয়টি অনুষদের অধীনে মোট ১ হাজার ৪০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৬৮ হাজার ৭৭ জন শিক্ষার্থী। ‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ) সাতটি বিভাগে ৩৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন ২৬ হাজার ৯৭৫টি। ‘বি’ ইউনিটে (কলা, সামাজিকবিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) আটটি বিভাগে ৪৫০টি আসনের বিপরীতে ২৮ হাজার ২৯৫ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) চারটি বিভাগে ২৪০টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। যথাক্রমে ‘এ’ ইউনিটে একটি আসনের বিপরীতে ৭৭ জন, ‘বি’ ইউনিটে একটি আসনের বিপরীতে ৬৩ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৫৩ জন ভর্তিচ্ছু ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj