উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য দেবে আন্দোলনকারীরা

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

জাবি প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্যউপাত্ত জমা দেবে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রাইহান রাইন। এদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাবি উপাচার্য অপসারণ দাবিতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, ব্যঙ্গাত্মক চিত্র অঙ্কনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী চিত্রাঙ্কন শুরু করেন তারা। ৬০ গজ লম্বা কাপড়ে ব্যঙ্গাত্মক চিত্রের মাধ্যমে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের ভাষা প্রকাশ করেছেন তারা। চিত্রাঙ্কন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করেন।

সরজমিনে দেখা যায়, চিত্রাঙ্কনে শিল্পীরা ‘দাড়ি ধরে মারো টান, ফারজানা ইসলামের গদি হোক খান খান’, ‘ভাঙ্গবে শিকল খুলবে চোখ, ধ্বংস হবে ভণ্ড লোক’, ‘গুলিবিদ্ধ গান একদিন ঠিক কেড়ে নেবে স্বৈরাচারের প্রাণ’, ‘হাও মাও খাও প্রতিবাদের গন্ধ পাও! বন্ধ করো ক্যাম্পাস, বন্ধ করো হল, ভয় পাও সব বেয়াদবের দল’ ইত্যাদি ¯েøাগানসহ চিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরেন। এরপর সন্ধ্যায় পটচিত্র নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

চিত্রাঙ্কন শিল্পীরা বলেন, ‘চিত্রাঙ্কন হলো আমাদের প্রতিবাদের একটি ভাষা। যা মুখে এতদিন বলে আসছিলেন তা রং ও তুলির মাধ্যমে প্রকাশ ঘটেছে।’ চিত্রশিল্পী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত জানান, ‘রঙের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছি আমাদের অব্যক্ত কথাগুলো। আমাদের চলমান আন্দোলনের ঘটনাগুলো চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। আরেক চিত্রশিল্পী প্রতœতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিদা শহিদ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক উপাচার্যের চরিত্রকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরছি। তার দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নারী নিপীড়কদের প্রশ্রয়, শিক্ষাকে ব্যবসা ইত্যাদি অঙ্কিত হচ্ছে এ চিত্রের মাধ্যমে’। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাকিবুল হক রনি বলেন, ‘হামলা-মামলা ও হুমকিতে অগ্রাহ্য করে নৈতিকস্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িত সবার রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’ ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, আমরা পটচিত্রের মাধ্যমে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ করছি। এসব পটচিত্রে উপাচার্যের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ছাত্রলীগ দ্বারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাসহ সব অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অসৎ উপাচার্যের অপসারণ চাইছি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর গতকাল আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রলীগের টাকা আদান-প্রদানের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর মুখপাত্র অধ্যাপক রাইহান রাইন বলেন, দুর্নীতি প্রমাণের দায়িত্ব আমাদের নয়, তবে আমরা উপাচার্যের নানামুখী অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্যউপাত্ত আজই (শুক্রবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। আর যেহেতু রবিবার পর্যন্ত ইউজিসি বন্ধ থাকবে, সেহেতু রবিবারই ইউজিসিকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেব। মূলত আমরা চাই, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উপাচার্যের দুর্নীতি প্রকাশিত হোক।

উল্লেখ্য, টানা তিন মাস ধরে উপাচার্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’। তবে গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার পর চরম উত্তেজনা বিরাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj