প্রধানমন্ত্রীর অনুদান সেই জামায়াত নেতার হাতে : সাদাত উল্লাহর পেছনে কে

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুমকি প্রদানকারী, যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তিতে আন্দোলনকারী জামায়াত ক্যাডার চট্টগ্রামে লোহাগাড়া চরম্বা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বান্দরবানে ইনকিলাবের প্রতিনিধি সাদাত উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী মিশনে গেছেন, সরকারি অনুদানে হজ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান নিয়েছেন। আবার গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই হাসিমুখে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ টাকার অনুদান পেলেন! তার এই খুঁটির জোর কোথায় সে নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের টাকা নেয়ার সময় জামায়াতি এই ক্যাডারের নাম ঘোষণা হলে বিএফইউজের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মহসিনের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি বিষয়টি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদসহ আরো কয়েকজন সাংবাদিক নেতার নজরে আনেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইনে প্রচারিত হলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে সাংবাদিক সমাজে। বান্দরবানের একজন প্রবীণ সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জামায়াত ক্যাডার সাদাত উল্লাহ এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে গেছেন ও সরকারি অনুদানে হজও করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে এবং সর্বশেষ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টেরও অনুদান পেয়েছেন। তিনি বেশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জামায়াতি ক্যাডাররা যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশে সফরসঙ্গী হন সে ক্ষেত্রে আর কী বলার আছে!

ফেসবুকে এই সাদাত উল্লাহ ২০১২ সালসহ বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কট‚ক্তি করে নানা ধরনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফেসবুকে তার আইডি খোলা হয়েছে প্রফেসর সাদাত নামে।

গতকাল শুক্রবার রাতে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদ ভোরের কাগজকে জানিয়েছেন, ‘সাদাত উল্লাহকে দেয়া চেক বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তা ছাড়া কার বা কাদের সুপারিশে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটল তারও তদন্ত হবে।’

এদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, জামায়াতের ক্যাডার সাদাত উল্লাহ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে। সিইউজের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাদাত উল্লাহ সাঈদীর মুক্তির দাবি জানিয়ে ৭ বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দিয়েছিলেন। জামায়াত নেতা সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁশের লাঠি, তীর ধনুক, বল্লম নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন এই সাদাত উল্লাহ। লোহাগাড়ার চেয়ারম্যান থাকাকালে এই জামায়াত ক্যাডার ইউনিয়নের দুস্থ গরিব লোকের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কেজি সরকারি চাল গুদাম থেকে তুলে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জামায়াতের এই ক্যাডার সাতকানিয়া দুদু ফকির মাদ্রাসার শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। এত অপরাধ করা সত্ত্বেও জামায়াতের এই ক্যাডার কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে কীভাবে অনুদান পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সিইউজে। পেশাদার সাংবাদিক না হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে কীভাবে এই জামায়াত ক্যাডার বরাদ্দ পায়, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সিইউজে। বিবৃতিতে নেতারা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন, অসুস্থ, অসহায় সাংবাদিকদের সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj