নিজেদের নিজেরাই খেয়ে ফেলছে পিঁপড়ার দল!

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : ক্যানিবালিজম অর্থ নিজেদের প্রজাতির মাংস খেয়ে জীবনধারণ করা। প্রাণীদের মধ্যে ক্যানিবালিজম নতুন নয়। অনেক মাকড়সার মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তবে স¤প্রতি এমন এক পিঁপড়ার কলোনি পাওয়া গেছে, যারা স্বভাবগতভাবে ক্যানিবাল নয়, কিন্তু খাদ্যের অভাবে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য এখন নিজেরাই নিজেদের খেয়ে ফেলছে। সূত্র আনন্দবাজার।

পোল্যান্ডে নিউক্লিয়ার বাঙ্কারের ভেতর বিজ্ঞানীরা এই জাতীয় পিঁপড়ার খোঁজ পান। জার্নাল অব হাইমেনোপটেরা রিসার্চে বিষয়টি প্রকাশ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এদের নাম দিয়েছেন রাক্ষস পিঁপড়া। দুটো উড-অ্যান্ট-কলোনির কাহিনী এটা। একটা কলোনি তৈরি হয়েছে রানি পিঁপড়া ঘিরে, আর অন্য কলোনি তৈরি হয়েছে

খাদ্যের অভাব ঘিরে। পরে তারাই পরিণত হয়েছে রাক্ষস পিঁপড়াতে। নিউক্লিয়ার বাঙ্কারে একটি পাইপের মধ্যে রয়েছে এই উড-অ্যান্ট-কলোনি। বিজ্ঞানীদের দাবি, এটাই আসল কলোনি, করণ এই কলোনিতেই রানি পিঁপড়া থাকে। কিন্তু খাদ্যের সন্ধানে কলোনির শ্রমিক বা কর্মী পিঁপড়াদের পাইপ থেকে বাইরে আসতে হয়। ওই পাইপের কাছেই আরো একটি ভেন্টিলেশন পাইপ রয়েছে। দুটো পাইপের অবস্থান এমনই যে, খাদ্যের সন্ধানে যাওয়ার সময় প্রতিদিন অনেক পিঁপড়া ভেন্টিলেশন পাইপের মধ্যে পড়ে যায়। সেখান থেকে তারা আর নিজেদের কলোনিতে ফিরতে পারে না। ভেন্টিলেশন পাইপটা গিয়ে পড়েছে একটি ছোট অন্ধকার ঘরে। ফলে সেখানেই তৈরি হয়ে গেছে এক নতুন কলোনি। বিজ্ঞানীরা দেখেন, বাইরে আর বেরিয়ে আসতে না পারায় ওই কলোনির মধ্যে চূড়ান্ত খাদ্যাভাব দেখা দেয়। দীর্ঘ দিন খাদ্য না পেয়ে অনেক পিঁপড়া মারা যায়। তখন অন্য পিঁপড়ারা মৃত পিঁপড়াদের খেয়ে জীবনধারণ করে। অনেক সময় তাদের মধ্যে এতটাই খাদ্যাভাব দেখা যায় যে, পিঁপড়ারা নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধে মৃতদের দেহ খেয়ে বাকিরা বেঁচে থাকে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj