র‌্যাবের জ্যাকেট পরা ডাকাতের সঙ্গে ডিবির গোলাগুলি : নিহত ১

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর বাড্ডায় র‌্যাবের জ্যাকেট পরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডিবি পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে লাভলু মিয়া (৫০) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। গত বুধবার রাত ২টার দিকে ১শ ফিট ১ম ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে সেলিম মিয়া (৪৫) ও মো. কামাল (৩৭) নামে আরো দুই ডাকাত আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ৩টি র‌্যাবের জ্যাকেট, দুটি ওয়ারলেস সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ ও ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস।

ডিএমপি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১৯ অক্টোবর বাড্ডা থানার মেরুল বাড্ডার প্রগতি সরণিতে একটি লোকাল বাসের গতি রোধ করে একজন যাত্রীকে জোরপূর্বক নামানো হয়। তার কাছে থাকা ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ডেমরা ব্রিজে ফেলে দেয় ডাকাত দলের সদস্যরা। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি মামলা দায়েরের পর ছায়া তদন্ত করে ডিবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি উত্তর বিভাগের গুলশান জোনাল টিম ১শ ফিট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নম্বরপ্লেটহীন একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস থেকে ডিবি পুলিশের ওপর গুলি চালানো হয়। একপর্যায়ে ডিবি পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। এতে মাইক্রোবাসে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে ৩ জন গুলি করতে করতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে মাইক্রোবাস থেকে গুলিবিদ্ধ ওই ৩ জনসহ মো. রাসেল নামে আরো এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত লাভলুর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম জানান, লাভলুর বাবার নাম হাবিবুর রহমান। থাকত গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায়। এলাকাতেই কাপড়ের ব্যবসা ছিল তার। তবে বর্তমানে বেকার ছিল সে। গত বুধবার সকাল ১০টায় সে বাসা থেকে বের হয় ঢাকায় আসবে বলে। এরপর বিকেল ৫টার দিকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ৩টার দিকে খবর পান ডিবির গুলিতে আহত সে। এরপর ভোর ৫টায় ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পান। ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক লাভলুর নামে কোনো মামলাও ছিল না বলে দাবি করেন তার স্ত্রী।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৩ জনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাভলু নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজনকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj