জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি : প্রমাণ দিন, নইলে শাস্তি

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে সরকার। এ নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে যারা এমন অভিযোগ এনেছেন, তাদেরই এর সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি করলে যে শাস্তি হয়, আইন অনুযায়ী দুর্নীতির ভিত্তিহীন অভিযোগকারীদেরও একই সাজা ভোগ করতে হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তার কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অসুস্থ, অসচ্ছল ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদসহ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা।

জাবি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, হঠাৎ দেখছি কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা নেই, বার্তা নেই উপাচার্র্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন। উপাচার্যকে দুর্নীতিবাজ বলছে। আমার স্পষ্ট কথা, যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তাদের কিন্তু এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। তারা যদি তথ্য দিতে পারে নিশ্চয়ই আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারবে না। ওই অভিযোগ করে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে, ক্লাস চলতে দেবে না, ইউনিভার্সিটি চলতে দেবে না। আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ, ভাঙচুর…। এটাও তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ছাত্র-শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেন ঘটাবে? তারা ক্লাস কেন বন্ধ করবে? প্রত্যেকটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা তারা খরচ করে তাদের পড়ার জন্য? খরচ তো সরকারের পক্ষ থেকে করি। স্বায়ত্তশাসন তাদের আছে। স্বায়ত্তশাসিত হলে তো তাদের নিজেদের অর্থের জোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা। কিন্তু প্রতি বছর বাজেটে আমরা টাকা দেই। বাজেটে আমরা টাকা দেব আর সরকার সেখানে কিছুই করতে পারবে না, এভাবে দিনের পর দিন তারা ক্লাস বন্ধ করে থাকবে, এটা হয় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিসির বিরুদ্ধে যারা দুর্নীতির অভিযোগ করছেন, তাদের সেটা প্রমাণ করতে হবে। যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়… প্রত্যেকে যারা অভিযোগ নিয়ে আসছে, যারা বক্তৃতা দিচ্ছে… আমি বলেছি, সব ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতি করলে যে শাস্তি, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার যে শাস্তি হতো, যে অভিযোগকারী সে যদি ব্যর্থ হয় প্রমাণ করতে, তাকে কিন্তু সেই সাজা পেতে হবে।

আবরারের হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হলেও বুয়েটে এখনো আন্দোলন কেন- প্রশ্ন রেখে সরকারপ্রধান বলেন, বুয়েটের সমস্যাটা কী সেটা তো বুঝতে পারছি না। আমরা তো সবই করলাম। তারপরও এই আন্দোলন কিসের জন্য? দিনের পর দিন ক্লাস করতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তাহলে তারা ইউনিভার্সিটিতে থাকবে কেন? এ ধরনের কাজ যারা করবে তাদের বহিষ্কার করা উচিত।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj