স্বেচ্ছাসেবক লীগ : ঢাকা মহানগরে শীর্ষ দুই পদেই পরিবর্তন!

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

মুহাম্মদ রুহুল আমিন : আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সম্মেলন আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর। এরই মধ্যে এগিয়ে চলেছে ইউনিট দুটির প্রস্তুতি। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ সম্মেলন। পদপত্যাশীরাও ব্যস্ত দৌঁড়ঝাপে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা। প্রতিদিনই ভিড় করছেন দলটির সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় ও ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে। নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত এখন দলীয় কার্যালয়গুলো। সম্মেলনের উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৬ সালের ৩১ মে। দক্ষিণে সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু এবং উত্তরে মোবাশ্বের চৌধুরী সভাপতি ও ফরিদুর রহমান ইরান সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১২ সালে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলনে উত্তর ও দক্ষিণে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার প্রস্তাব পাস হলেও এখনো ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিই বহাল আছে। ধাপে ধাপে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পছন্দমতো একেক জনকে একেক পদ দিলেও তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। এ নিয়ে বেশ বিতর্কও রয়েছে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান কমিটি বেশ কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ড কমিটি দিতে পারেনি আজও। ১৭ বছর আগে দেয়া কমিটি দিয়েই চলছে কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ড। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সংগঠনের কাজ এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা।

১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ১২ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবার দুই ইউনিটে যারা আলোচনায় আছেন, তাদের প্রত্যেকেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ভোরের কাগজকে বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে দীর্ঘদিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার সম্মেলনে পুরনো কাউকেই শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হবে না। একবারেই নতুন নেতৃত্ব আসবে। যারা ত্যাগী, স্বচ্ছ ইমেজের অধিকারী ও মেধাবী।

ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদের আলোচনায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হাওলাদার, তিনি একজন ব্যবসায়ী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক সাঈদ, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি। আলোচনায় আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস। বিএনপি আমলসহ ওয়ান ইলেভেনে রাজপথে লড়াই-সংগ্রামে এই ছাত্রনেতার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ডিএসসিসির ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি। দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিসুজ্জামান রানার রয়েছে স্বচ্ছ ইমেজ। তরুণদের মধ্যে আলোচনায় আছেন আরেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এ ছাড়া পুরান ঢাকার বাসিন্দা হিসেবে জোরালো আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট গোপাল চন্দ্র সরকার। পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের দীর্ঘ মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আলোচনায় আছেন জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

ঢাকা উত্তরে যারা আলোচনায় আছেন, তাদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল। বিপুল ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য। ঢাকা উত্তরে সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীদের মধ্যে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া। ওয়ান ইলেভেনে দলের পক্ষে ভূমিকা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে তিনি ছিলেন নিষ্ক্রিয়। এ ছাড়া আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সরদার, তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেনসহ অনেকেই।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj