মজুদে গরমিল, হস্তান্তরে গড়িমসি! : উলিপুর খাদ্যগুদামে ২২ দিনেও দায়িত্ব পাননি নতুন কর্মকর্তা

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম থেকে : উলিপুর সরকারি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাকে দুর্নীতির কারণে বদলি করার ২২ দিন পরও দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বদলির আদেশ ঠেকাতে অসাধু ওই কর্মকর্তা ডিজি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া ডব্লিউকিউএসসির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ধান না কেনায় গুদামে ধানের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে তিনি বদলি হয়ে আসা নতুন গুদাম কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহ ও ছাটাইয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন উলিপুর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম। বিষয়টি ওই সময় জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এ ব্যাপারে ডিজির নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত টিম সরেজমিন তদন্ত করলে ওই কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা গত ১৬ অক্টোবর প্রশাসনিক কারণে দুর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বদলি করেন। তার শূন্য স্থানে খাদ্য পরিদর্শক আমজাদ হোসেনকে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি/পদায়ন করা হলে তিনি গত ২১ অক্টোবর কর্মস্থলে যোগদান করেন। নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে অসাধু ওই ওসিএলএসডি গা ঢাকা দেন। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে স্পর্শকাতর ওই খাদ্যগুদাম থেকে ছাটাইয়ের জন্য বিভিন্ন মিলে ধান সরবরাহ করাসহ সার্বিক কাজ-কর্ম পরিচালনা করেছেন প্রহরির দায়িত্বে থাকা দোহা নামে এক ব্যক্তি। খাদ্য ব্যবসায়ীদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে ওই কর্মকর্তা গত ক্রয় অভিযানের সময় গুদামে প্রায় ১৮৬ টন ধান কিনেই ভুয়া ডব্লিউকিউএসসির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেন। ফলে গুদামে মজুদের বড় ধরনের গরমিলের আশঙ্কা করা হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে নতুন কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার আশঙ্কায় তিনি বদলি আদেশ ঠেকাতে উপর মহলে তদবির চালাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত বদলির নীতিমালা অনুযায়ী খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা-২০১৯ এর ৩নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বদলি আদেশ জারির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নতুন কর্মস্থলে যোগদান/দায়িত্ব হস্তান্তর বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে তা কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না।

এদিকে গত মঙ্গলবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওই কর্মকর্তাকে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য পুনরায় অফিস আদেশ জারি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি বলে খাদ্য অফিস সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে বদলি হওয়া কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি।

সদ্য যোগদানকারী গুদাম কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গত ২১ অক্টোবর প্রথম গুদামে যোগদান করলে বদলি হওয়া গুদাম কর্মকর্তা তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণটিও করেননি। তবে গুদামের হিসাব-নিকাশ এলোমেলো থাকায় গত মঙ্গলবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অ:দা:) আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাকে পুনরায় চিঠি দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে।

আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা রায়হানুল কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj