কর্তৃপক্ষের গাফেলতি : নবজাতকের মৃত্যু, হামলায় আহত ৩

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুর সদর হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবজাতকের বাবা, দাদি ও ফুফুকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নবজাতক মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকার মারুফ শেখের সন্তান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে মাদারীপুরের চৌধুরী ক্লিনিক নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মারুফ শেখের স্ত্রীর বাচ্চাটি প্রসব করানো হয়। পরে বাচ্চাটির অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে ডা. মো. ফিরোজ খান সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বললে ভুক্তভোগীর পরিবার বাচ্চাটিকে সেখানে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হলে একই ডাক্তার বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদপুরে নিয়ে যেতে বলেন।

শিশুটিকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়। ডাক্তার তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতরে ভর্তি হওয়া রোগী দেখছিলেন। এ সময় দারোয়ানরা ওয়ার্ডের দরজা বন্ধ করে রাখে। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে ধাক্কাধাক্কি করেন দরজা খোলার জন্য। এ সময় দারোয়ানরা ক্ষিপ্ত হয়ে নবজাতকের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করে। এতে নবজাতকের বাবা মারুফ শেখ (৩০), দাদি রাহেলা বেগম (৫০) ও ফুফু মুক্তা (২২) মারাত্মক আহত হন। এই মারামারির সময় নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।

নবজাতকের বাবা মারুফ শেখ বলেন, ফরিদপুর রেফার করার কথা শুনে আমি ডাক্তারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে দরজার সামনে থাকা দারোয়ান আমাকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে আমার মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং আমার মা ও বোনকে মারধর করে আহত করে। দারোয়ানের গাফেলতির কারণে আমার বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. ফিরোজ খান বলেন, বাচ্চাটির ওজনে ঘাটতি ছিল। অবস্থার অবনতির কারণে আমি তাকে ফরিদপুর রেফার করতে বলি। বাইরে বাচ্চার বাবার সঙ্গে হাতাহাতির ব্যাপারে আমি সঠিকভাবে অবগত নই।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj