মধ্যপাড়া খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারিত

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

মোস্তাফিজুর রহমান বকুল, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) থেকে : দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায় পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুর রহমানকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোবাংলার মনিটরিং এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (এমএন্ডআই) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ বি এম কামরুজ্জামানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এ বি এম কামরুজ্জামান যোগদান করে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম-মাইন অপারেশন) আবু তালেব মো. ফারাজী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পেট্রোবাংলা গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় এক অফিস আদেশে ফজলুর রহমানকে পেট্রোবাংলায় এম এন্ড আই বিভাগের জিএম হিসেবে বদলি করে। একই সঙ্গে পেট্রোবাংলার এমএন্ডআই বিভাগের জিএম এ বি এম কামরুজ্জামানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে গত ১৫ জুলাই বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) থেকে ফজলুর রহমানকে মধ্যপাড়া খনিতে বদলি করা হয়েছিল।

এর আগে ২০১৮ সালের আগস্টে ফজলুর রহমান বিসিএমসিএল-এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগদান করেন এবং প্রফিট বোনাস আটকে রেখে খনির ১৪৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্যোগ নেন। কিন্তু বিষয়টি কয়েকটি সংবাদপত্রে ফাঁস হয়ে গেলে তা ভেস্তে যায়। তবে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ বিভাগে টাকা জমা দিয়েছেন, যা তারা আজো ফেরত পাননি। ক্ষুব্ধ এমডি সংবাদকর্মীদের ভবিষ্যতে কোনো তথ্য না দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্কপত্র, বদলি, গণহারে শোকজ, পরামর্শপত্র ও এসিআর খারাপ দেয়ার হুমকি প্রদান অব্যাহত রাখেন।

এদিকে চাঁদা আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল বলে পেট্রোবাংলা কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি প্রমাণ পায়। পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) জোবায়েদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত ওই তদন্ত কমিটি কয়লা উৎপাদন পরিকল্পনা ও সুষ্ঠুভাবে কোম্পানি পরিচালনা কাজে অধিকতর গুরুত্ব দেয়ার পরিবর্তে সাধারণ কারণে বদলি, কারণ দর্শানো, পরামর্শপত্র প্রদান, কোম্পানির পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিরূপ সমালোচনার মাধ্যমে গ্রুপিং সৃষ্টি এবং কোনো কোনো কর্মকর্তাকে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা প্রদান করায় খনির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদন দেয়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj