মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শক্তি ইরান!

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : প্রতিদ্ব›দ্বী সৌদি আরবকে হারিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের কৌশলগত লড়াইয়ে জিততে যাচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রিয়াদের শতকোটি ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে এর ভগ্নাংশ খরচ করেও তেহরান এখন সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনের ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ভাগীদার।

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে সৌদি আরব দশকের পর দশক ধরে শত শত কোটি ডলারের পশ্চিমা অস্ত্রশস্ত্র কিনেছে, যার বেশিরভাগই যুক্তরাজ্য থেকে গিয়েছে বলে জানায় বিবিসি।

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরান প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্রে পিছিয়ে থেকেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠীর মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে কৌশলগতভাবে নিজেকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে।

‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নেটওয়ার্কের প্রভাব’ শীর্ষক ২১৭ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর ১৯৭৯ সালে দেশটির নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তারা নিজ সীমানার বাইরেও প্রভাব বিস্তারের কাজ শুরু করে।

এ কাজে তারা প্রথম যুক্ত করে লেবাননের হিজবুল্লাহদের। সাদ্দাম হুসেনকে উৎখাতের পর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাকে তারা গড়ে তোলে আধাসামরিক পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট (পিএমইউ)। সিরিয়া যুদ্ধে বাশারের পাশে দাঁড়িয়ে তেহরান তাদের প্রভাব ইসরায়েলের সীমানায় নিয়ে যায়। ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করলে ইরান সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বিদ্রোহী হুতিদের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পাল্টে যাওয়া চিত্রের মূল অনুঘটক বলা হচ্ছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) বৈদেশিক বিভাগ ‘কুর্দি’ ফোর্সকে যারা সমগ্র অঞ্চলে তেহরানের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। এই কুর্দি ফোর্স ও তাদের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সুলাইমানির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী সাদ্দামকে উৎখাত করার পর থেকে ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলে বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে কুর্দি ফোর্স পেখম মেলতে শুরু করে।

আইআইএসএস বলছে, গত ৪০ বছর ধরে ইরান খুব সতর্কতার সঙ্গে তার মিত্রদের বেছে নিয়েছে, তাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়েছে, দিয়েছে কৌশলগত নানান সুবিধাদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মেয়াদেও তারা ধারাবাহিকভাবেই এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় লন্ডনের ইরান দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ইরান একটি শক্তিধর দেশ। এই প্রতিবেদনের অর্থ যদি হয় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকার যথাযথ মর্যাদা দেয়া উচিত, তাহলে একে স্বাগত জানাচ্ছি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj