মুখ দিয়ে ছবি এঁকে দৃষ্টান্ত স্থাপন নওগাঁর মাউথ পেইন্টার ইব্রাহিমের

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

মো. আবু বকর সিদ্দিক, নওগাঁ থেকে : দুটি পা পুরোপুরি অবশ। হুইল চেয়ারে বসা। তবে মাথা ও মুখ ব্যস্ত থাকে রং তুলিতে। ঘাড় ঘুরিয়ে বারবার রং নিচ্ছেন। রাঙিয়ে তুলছেন ক্যানভাস। হুইল চেয়ারের সঙ্গে বিশেষ উপায়ে লাগানো ক্যানভাসে গরু, গাছ, মানুষসহ বিভিন্ন ছবি আঁকছেন তিনি। কিন্তু এতে সখ পূরণ ছাড়া আর কিছুই হয় না তার। সরকার কর্তৃক প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বিধবা ভাতা দিয়ে কোনো রকমে চলছে সংসার।

নওগাঁর মান্দা পুরানপুরের এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিমের পা দুটি একসময় সচল ছিল। পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। কাজ করতেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে। ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পল্লী বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার শিকার হন। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে হারান দুই হাত। অচল হয় দুটি পা। চিকিৎসার সব খরচ পল্লীবিদ্যুৎ নিলেও নেয়নি তার ভবিষ্যৎ জীবনের দায়িত্ব। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নেন দীর্ঘ আট বছর। মুখ দিয়ে ছবি আঁকার কারণ জানতে চাইলে ইব্রাহিম বলেন, সিআরপিতে থাকার সময় শোনেন, লাভলী নামে একজন মুখ দিয়ে ছবি আঁকে। লাভলীর সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি তবে লাভলীর গল্পই তার অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ছবি আঁকতে বসলে মাথা ঘুরত। বমি করতাম। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। বেশি ভালো লাগে প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে। সিআরপিতে থাকার সময় আমার আঁকা ছবির অনেক প্রদর্শনী হয়েছে। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। ছবিগুলো আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আমার কাছ থেকে ২০টি ছবি নিয়ে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এসব ঘটনা আমার জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে। তবে বর্তমানে বেশিক্ষণ ছবি আঁকতে পারি না। একটানা ছবি আঁকলে গায়ে জ্বর আসে। উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের চককেশব বালুবাজার গ্রামে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বসবাস করছেন ইব্রাহিম। মান্দা পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস খান বলেন, মাউথ পেইন্টার ইব্রাহিমকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড এবং তার মায়ের জন্য বিধবা ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা না থাকায় ইব্রাহিমের প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, মুখ দিয়ে আঁকা ইব্রাহীমের ছবিগুলো দেখলে সত্যিই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। তার আঁকা ছবি একদিন সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করবে এটাই আমাদের আশা। উপজেলা প্রশাসন থেকে ইব্রাহীমের আঁকা ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা এবং সরকারের সার্বিক সহযোগিতা আশ্বাস দেন তিনি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj