রকমারি : উল্কাপিণ্ড কাকে বলে?

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

এখানে একটা কথা জেনে রাখা ভালো। বাংলায় আমরা বলি উল্কা বা উল্কাপিণ্ড, ইংরেজিতে একই সঙ্গে দুটো শব্দ আছে। এক হলো মাটিয়র, মানে উল্কা। কিন্তু পৃথিবীতে নামলেই নাম পাল্টে হয়ে যায় মিটিয়রাইট উল্কাপিণ্ড।

উল্কা দেখছেন তো? অন্ধকার আকাশের দিকে হাঁ করে চেয়ে থাকলে বা চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে চোখে নিশ্চয়ই পড়েছে যে হঠাৎ একটা তারা যেন ধাঁ করে ছুটে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলে গেল। মনে হয় যেন বিরাট আকাশে কোথাও মিলিয়ে গেল, অথবা যেন পৃথিবীতে এসে পৌঁছল।

উল্কা বা উল্কাপিণ্ডের ব্যাপারে ভয় পাওয়া তেমন কিছু নেই, এক যদি মাথায় এসে না পড়ে। অথচ তাবৎ বিশে^ শিক্ষিত অশিক্ষিত অনেকেরই কুসংস্কাররাচ্ছন্ন মনে উল্কা এক ভীতির ব্যাপার। উল্কাপিণ্ডের কথা শুনলেই বুঝবেন এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তার কারণ উল্কাপিণ্ড হলো ধূমকেতুর ভাঙা টুকরো মাত্র। সৌরমণ্ডলের অনিয়মিত সদস্য ধূমকেতু। না, চলাফেরায় এর কোনো অনিয়ম নেই, তবে এ ঠিক আমাদের গ্রহ-উপগ্রহের ভদ্র পরিবারের তেমন কেউ নয়।

ওই যে ধূমকেতু থেকে একটা টুকরো ছিটকে চলে এলো, অথবা একটা আস্ত ধূমকেতু যে চলতে চলতে একদিন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, তারা মহাকাশে হারিয়ে যেতে গিয়েও কিন্তু পারে না। বিভাজিত টুকরোর সব মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ঘুরপাক খেতেই থাকে। এরই মধ্যে এক আধটা টুকরো একদম সব বাঁধনের বাইরে চলে আসে, আবার কখনো বা সব টুকরোই। জানা যায় যে বড় বস্তুপিণ্ড ছোটকে আকর্ষণ করে। তাই টুকরো যদি কক্ষচ্যুত হয় আর নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে না পারে, তবে অন্য কোনো গ্রহের ওপর গিয়ে পড়ে। পৃথিবীতে আমরা বলি উল্কাপিণ্ড।

আকাশ থেকে খসে পড়লেই যে উল্কাপিণ্ডদের চোখে দেখা যেতে পারে, তা মোটেই নয়। অন্য কোনো গ্রহ বা উপগ্রহে গিয়ে আছড়ে পড়তে পারে। মহাকাশের সীমানা শেষ করে যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এসে পৌঁছায় কেবল তখনই উল্কাপিণ্ড চোখে পড়তে পারে। তার কারণ হলো মহাশূন্যে উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের কোনো সাক্ষাৎ ঘটে না। তাই ঘর্ষণজনিত কোনো তাপও উল্কাপিণ্ডের দেহে উৎপন্ন হয়ে একে উজ্জ্বল করে তোলে না। তবে উজ্জ্বল হলেই যে আমাদের কাছে নেমে আসবে, তা নয়। ওই যে তাপ উৎপন্ন হলো এর ফলে উল্কাপিণ্ড জ¦লতে আরম্ভ করে। তারপর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসতে আসতে এক সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অধিকাংশেরই এই দশা ঘটে, কচিৎ এক আধটা পৃথিবীতে এসে পড়ে। বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে আসার সময় উল্কাপিণ্ডের চলার বেগ হয় প্রতি সেকেন্ডে দেড়শো থেকে দুশো কিলোমিটার। টুপটাপ দিনে রাতে সব সময়ই পড়ছে, তবু রাতের অন্ধকারে ভয় দেখানোর জন্য এরা চোখে পড়ে। যখন এভাবে পড়তে থাকে, বাতাস কাটানোর জন্য শব্দও হয় প্রচুর, শোনা যায় অনেক দূর থেকেও। এ পর্যন্ত যত উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে এসে পড়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ওজন হলো ৩৭ টন।

গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj