সমিতির সাড়ে ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

জাহাঙ্গীর আলম, মাদারীপুর থেকে : জেলায় ‘দি মাদারীপুর সাব ডিভিশন কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেড’ নামের সমবায় সমিতির সাড়ে ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আর আত্মসাতের তীর সমিতির সভাপতি আব্দুল বাকী মিয়া ও রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের সমবায় সমিতির পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর দিকে।

এতে তাঁতি সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত রবিবার তাঁতি সম্প্রদায়ের লোকেরা মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা। স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে মাদারীপুরে ‘দি মাদারীপুর সাব ডিভিশন কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেড’ সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং ৬৯ শতক জায়গা ক্রয় করে আধাপাকা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। বিগত ১৯৮৮ সালে টেকেরহাটের আবদুল বাকী মিয়া সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিন বছর মেয়াদি এ কমিটি মেয়াদ শেষ হলে তার ছোট ভাই রুহুল আমীন বেপারী সভাপতি হন। এর মেয়াদ শেষে কৌশলে তারই আরেক ভাই মো. হাবিব বেপারীকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ একই কায়দায় সাবেক সভাপতি বাকী মিয়া পুনরায় সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ঘুরেফিরে একই ঘরের মধ্যে আপন তিন ভাই সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আসছে। আর এভাবে কেটে গেছে ৩২ বছর।

বর্তমান সভাপতি বাকী মিয়া ২০১৭ সালে পকেট কমিটি গঠন করে ৬০ শতক জায়গা মাদারীপুরের প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ পেলে তাঁতি সম্প্রদায় ক্ষেপে ওঠে এবং তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এক পর্যায়ে সভাপতি হাজি আব্দুল বাকী মিয়া টেকেরহাটে তার নিজস্ব ৬ শতক জায়গা সমিতির নামে দলিল করে দিতে বাধ্য হন এবং ওই জায়গায় অফিস নির্মাণ করে দেন।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে জমিটি বিক্রি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন স্মারকলিপির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj