প্রাণের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

দিন-মাস-বছর পেরিয়ে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেন প্যারিস রোডের সৌন্দর্যও বেড়েই চলেছে। বাহারি ডালে সজ্জিত কচি পাতার গগন শিরীষ গাছগুলো প্যারিস রোডকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা। প্রকৃতিকে করেছে চির যৌবনা। প্যারিস রোডের পাশেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন। ভবনটির সামনে রয়েছে ফুলের বাগান। চারদিকে গাছপালায় আবৃত ছায়া ও সুশীতল এই ভবনটির পাশেই স্বাধীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ শাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্য। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যগুলোর অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য। এর স্থপতি শিল্পী নিতুন কুণ্ডু। এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী ভাস্কর্য।

রাজশাহী শহর থেকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক পথে ধরে ৮ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এলেই চোখে পড়বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ভেতরে দেখা মিলবে দেবদারু ও তারিপাম্প গাছের রূপের জাদু আর শোনা যাবে পাতার শনশন শব্দ। বাতাসে ভেসে আসবে ফুলের গন্ধ আর পাখির গুঞ্জন। সামনে যতই এগোনো যাবে ততই মনে হবে, এ যেন স্বর্গের কোনো লীলাভূমি।

প্রধান ফটকের পথ ধরে হাঁটার পর মিলবে বৃক্ষশোভিত গোল চত্বর। যার চারদিকটা নির্মিত কংক্রিট আর টাইলসে। শোভা পাচ্ছে হরেক রকমের ফুল। ফুলের মনমাতানো গন্ধ আকৃষ্ট করবে যে কাউকে। রাতে এখানে জ্বলে ওঠে নানান রঙের ঝাড়বাতির আলোর ঝলকানি। এখানেই রয়েছে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত দেশের প্রথম শহীদ ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতিফলক। সামনেই মাথা উঁচু করে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি গর্বের সঙ্গে অতিক্রম করছে ৬৪ বছর। মতিহারের সবুজ চত্বর নামে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয় তার সৌন্দর্য কোটি-কোটি মানুষের প্রাণে স্থান করে নিয়েছে।

ভ্রমণ পিপাসু আর বিদ্যানুরাগীদের প্রাণের ক্যাম্পাস এই মতিহারের সবুজ চত্বর। তবে মতিহারের সবুজ গালিচা দেখার জন্য চোখ রাখতে হবে প্রশাসন ভবন থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে।

সেখানে দেখা মিলবে একটি রাস্তা, যার দুই পাশে চোখ ধাঁধানো গগন শিরীষ গাছ। পিচঢালা রাস্তার দুই পাশে অতন্ত্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা কচি ডালে সজ্জিত আকাশচুম্বী গাছগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যকে নিয়ে গেছে অন্য এক মাত্রায়। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হবে ফ্রান্সের কোনো এক রাস্তা দিয়ে হাঁটা হচ্ছে। তবে এটি প্যারিসের কোনো রাস্তা নয়, এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শেরেবাংলা হল পর্যন্ত চলে গেছে রাস্তাটি। এটি আকৃষ্ট করে প্রকৃতিপ্রেমী হাজারো মানুষকে। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা এমনকি রাতের বেলায়ও এখানে থাকেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর সাধারণ মানুষ। তাদের পদচারণা আর গল্প আড্ডা চলে দীর্ঘ সময় ধরে। শুধু রাবির শিক্ষার্থীদেরই নয়, বাইরের দর্শনার্থীদেরও রাস্তাটি হয়ে উঠেছে একটি প্রাণের জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত গ্রাজুয়েশন শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী। প্রকৃতির অপার নিয়মে তারা আজ অনেকেই বৃদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু তারাও ভুলতে পারেন না প্যারিস রোডকে। দিন-মাস-বছর পেরিয়ে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেন প্যারিস রোডের সৌন্দর্যও বেড়েই চলেছে। বাহারি ডালে সজ্জিত কচি পাতার গগন শিরীষ গাছগুলো প্যারিস রোডকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা। প্রকৃতিকে করেছে চির যৌবনা। প্যারিস রোডের পাশেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন। ভবনটির সামনে রয়েছে ফুলের বাগান। চারদিকে গাছপালায় আবৃত ছায়া ও সুশীতল এই ভবনটির পাশেই স্বাধীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ শাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্য। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যগুলোর অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য। এর স্থপতি শিল্পী নিতুন কুণ্ডু। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী ভাস্কর্য। শেরেবাংলা ফজলুল হকের সামনে ভাষা আন্দোলন ও গৌরবময় স্বাধীনতার স্মৃতি ধারণ করে স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। চার একর জমির ওপর স্থাপত্য কর্মটির মূল স্থাপনার সঙ্গে উন্মুক্ত মঞ্চ, সমৃদ্ধ শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা, ক্যাফেটেরিয়া, বাগান ও সবুজ চত্বর সংযুক্ত।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj