বজ্র আর বিদ্যুৎ

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

বৃষ্টির সময় বা এমনিতেও বাদল দিনের আকাশে বিদ্যুতের চমক আর মেঘের ডাক বা বজ্রপাতের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় এসেছে। এদের উৎপত্তি সব একসঙ্গে ঘটলেও বিদ্যুৎ চোখে পড়ছে আগে, তারপর কানে আসছে মেঘের গর্জন বা বজ্রপাতের শব্দ। শব্দের চেয়ে আলোর গতি দ্রুততর হওয়ার ফলে বিদ্যুৎকে আমরা আগে দেখতে পাই।

বজ্রপাত কাকে বলে আর তা বিপজ্জনক কিনা বলতে পারেন? বিদ্যুৎ অনেক সময়ই পৃথিবী পর্যন্ত এসে না পৌঁছলেও যখন বাজ হয়ে মাটিতে এসে পড়ে তখন তার ফলে বহু ক্ষতি এমনকি প্রাণহানিও হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ চমক তো দেখেছেন, হঠাৎ আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত আলোর রেখা ঝলসে উঠে আকাশকে যেন চিরে দিয়ে যায়। বিদ্যুতের এই ঝলকানি দুই খণ্ড মেঘের মধ্যে হতে পারে, আবার আকাশ আর পৃথিবীর মধ্যেও হতে পারে।

ব্যাপারটা কি হয় জানেন? একখণ্ড বিদ্যুৎবাহী মেঘ যখন মাটির কাছাকাছি এসে পড়ে, তখন এর মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর যখন এই দুই শক্তির স্থৈতিক বৈসাদৃশ্য বাতাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা পার হয়ে যায়, বিদ্যুৎ তখন বাতাসের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীর দিকে নেমে যায়। এর ফলে বিদ্যুৎ চমকায়, বাদল গর্জে ওঠে।

ঠিক একইভাবে দুই খণ্ড বিদ্যুৎবাহী মেঘ যদি পরস্পরের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলেও সেই বিদ্যুৎ চমক আর মেঘের ডাক। এই চমক কখনো কখনো পঁচিশ-ত্রিশ মাইল (চল্লিশ-পঞ্চাশ কি.মি.) পার হয়ে যায়।

কিন্তু পৃথিবীর সংস্পর্শে এসে যদি বাজ পড়ে তাহলে বেশ বড় বড় বিপদ ঘটতে পারে। মানুষ, জন্তু এরা মারা পড়তে পারে, বাড়িঘর ভেঙে পড়তে পারে, আগুন লাগতে পারে। লক্ষ্য করে থাকবে যে খুবই উঁচু বাড়ির ছাদে ত্রিশূলের মতো ধাতব একটা জিনিস পোঁতা থাকে। একটা তারের এক প্রান্ত বাঁধা থাকে এই ত্রিশূলের সঙ্গে আর অপর প্রান্ত বাড়ির গা বেয়ে নেমে যায় মাটির মধ্যে। এর নাম হলো বজ্রবহ। খুব বড় বাড়ি হলে ছাদের চার কোনায় চারটি বজ্রবহ থাকতে পারে।

বাজ পড়ার ব্যাপারে একটা কথা মনে রেখবেন যে শব্দ যত ভয়ঙ্কর হোক, বিদ্যুতের চমক যদি আপনি দেখতে পান তাহলে জানবেন আর ভয়ের কোনো ব্যাপার নেই। কেননা বাজ যা ক্ষয়ক্ষতি করার তা অন্যত্র করেছে।

গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj