ম্যানার শেখানোর নামে বন্ধ হোক নির্যাতন

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

প্রতি বছরের মতো এ বছরও কয়েক লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং সেখান থেকে মাত্র কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী সুযোগ পাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। প্রত্যেক বছর স্বপ্নাতুর এসব চোখের স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই তেতো হয়ে ওঠে ম্যানার শেখানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে।

বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ব্যাচ এলে ম্যানার শেখানোর একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়। শহর, গ্রাম এমনকি একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এক ছাদের নিচে জমা হয়, সে ছাদ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচয় দেয়া থেকে শুরু করে হাঁটাচলা, কথা বলা সব কিছুতে একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এগুলো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই আলাদা এবং স্বতন্ত্র। নতুন ব্যাচ এসে এসব ম্যানার জানে না, সেগুলো শেখানোর দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই বর্তায় সিনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর। এটা দোষের কিছু নয়, এতে করে নতুন ও পুরনো শিক্ষার্থীদের মাঝে চেনা পরিচিতি হয় এবং ক্যাম্পাস জীবন আরো মধুময় হয়ে ওঠে। কিন্তু বিপত্তিটা বাধে তখন- যখন একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ম্যানার শেখানোর নামে সদ্য আগত জুনিয়র শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। শারীরিক নির্যাতনের চেয়েও ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই দেখা যায় নবীন শিক্ষার্থী সবসময় নির্যাতনের ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থী যখন এসেই দেখে বড় ভাইরা ম্যানার শেখানোর নামে নির্যাতন করছে তারা বিষয়টি পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করে, ফলে পরিবারও দূরে বসে সর্বদা তাদের সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা করে। নতুন পরিবেশে এসেই প্রায় সারারাত ম্যানার শেখানো এবং অনেক সময় তা স্বাভাবিক মাত্রাকে ছাড়িয়ে চলে যায় নির্যাতনের পর্যায়ে। যার রেশ থেকে যায় কয়েক বছর এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সম্পর্কেই একটি কুরুচিপূর্ণ মনোভাব এনে দেয়।

দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ সেশনের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ বা শেষের দিকে এবং কয়েক মাস পরই শুরু হবে নতুন ব্যাচের ক্লাস। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় মুখরিত হবে নতুন মুখ, চোখ ও স্বপ্নের ভিড়ে। কিন্তু প্রতি বছর সেখানে একটি ছেদ হয়ে দেখা দেয় র‌্যাগিং। এখন সময় এই বাজে প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত র‌্যাগিং বন্ধ করে দেয়া। ম্যানার শেখানো আর নির্যাতন কখনো এক হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য থাকলে যেমন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচয় প্রদান, এমন কিছু বিষয় থাকলে ম্যানার শেখানোর বিষয়টি হোক বড় ভাই ছোট ভাইকে যেভাবে শেখায় তেমনভাবে শেখানো উচিত, নির্যাতনের মাধ্যমে নয়। নতুনরা ভুল করবে কিন্তু সে ভুলের মাসুল কেন শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে দিতে হবে? বন্ধ হয়ে যাক এসব কুসংস্কৃতি।

মাহমুদুর রহমান মানিক

শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

মাহফুজা অনন্যা

আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

Bhorerkagoj