খাদ্যের মান ও দাম

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মময় মানুষ বেঁচে থাকার তাগাদায় হোটেল-রেস্টুরেন্টের শরণাপন্ন হয়। টং দোকান থেকে আভিজাত রেস্টুরেন্ট, হোটেল যেটাই হোক ওইসব রেস্টুরেন্টে জনগণকে যেতে হয়। কিন্তু এসব রেস্টুরেন্টে খাদ্য তৈরি পরিবেশ, দাম এবং মান নিয়ে অভিযোগের শেষ থাকে না। পচা-বাসি খাবার থেকে শুরু করে একেবারে নি¤œ মানের ময়দা, মেয়াদোত্তীর্ণ পোড়া তেল ব্যবহার করে এসব খাদ্য জনগণকে খাওয়াতে দেখা যায়। ওপরে চাকচিক্য রেস্টুরেন্টের নাম থাকলেও ভেতরে ভেজালে ভরপুর। পোড়া তেল, নি¤œ মানের আটা, ময়দা দিয়ে তেলে ভাজা ফাস্টফুড ছাত্র থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে চড়া দামে খাওয়ানো হয়। এসব নাস্তার আইটেমের নামে ভিন্নতা হলেও দামের মধ্যে চড়া, তফাৎ দেখা যায়। গরু, মুরগি, খাসির মাংসের মধ্যে বিরাট ভেজাল এখানে লক্ষ করা যায়। চড়া দাম দিয়ে খেতে হয় জনগণকে। ফার্মের মুরগি কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে হলেও ছোট আকারের ২ পিস মুরগির সাধারণ হোটেলে দাম নেয়া হয় ১০০ টাকা। আর যদি সেটা দেশি মুরগি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তার মূূল্য বেড়ে হয় ২০০ টাকা। গরুর মাংসের কথা বলে মহিষের মাংস বিক্রি করার নজির অহরহ। সেক্ষেত্রে মাত্র ছোট ছোট ৬ পিস গরু মাংসের দাম নেয়া হয় ১৫০ টাকা। এভাবে অন্যান্য যেসব খাবার হোটেল-রেস্টুরেন্টে পরিবেশন করা হয় সেসবের দাম প্রায় তিনগুণ বলা যায়।

একটা রেস্টুরেন্টের খাদ্য আইটেমের মূূল্য তালিকার সঙ্গে আরেকটা হোটেলের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। ইচ্ছামতো দাম নিয়ে চরমভাবে জনগণের পকেট কাটা অব্যাহত আছে। মাছ, মাংস পরিবেশনে ব্যাপকভাবে ভেজাল, কারচুপি অহরহ। একজন সাধারণ মানুষ একটি সাধারণ খাদ্য রেস্টুরেন্টে খেলেও তার এক থেকে দেড়শ টাকা দরকার হয়। কিন্তু যে খাদ্য একজন মানুষ হোটেল থেকে গ্রহণ করেছে তার মূল্য ৪০ টাকার ওপরে আসার কথা নয়। এভাবে হোটেল-রেস্টুরেন্টে পচা-বাসি খাবারের সঙ্গে যে পরিমাণ দাম হাতিয়ে নিচ্ছে তা যেন দিব্যি চোখ বুজে আমরা গ্রহণ করে যাচ্ছি। শ্রমজীবী-পেশাজীবী মানুষ থেকে ভিআইপি জনগণও এসব হোটেল-রেস্টুরেন্টের অথবা ফাস্টফুড দোকানের খাবার গ্রহণ করে যাচ্ছে। কিন্তু এসব খাবারের মান আর মূল্য নিয়ে কারো বাদ-প্রতিবাদ নেই বললেই চলে। যা হোটেল মালিকরা চায় তাই দিয়ে জনগণ হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়ে। কেন এত দাম নেয়া হয় একবারের জন্য কোনো হোটেল গ্রাহককে বলতে দেখা যায় না। যারা নিয়মিতভাবে হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেয়ে জীবন-জীবিকার সন্ধান করে তাদের জন্য এ মূল্য অনেক কঠিন ও কষ্টকর। কিন্তু যারা মাঝে মধ্যে হোটেল-রেস্টুরেন্টের শরণাপন্ন হয় তাদের কথা না চিন্তা করলেও যাদের নিয়মিত রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে হয় অবশ্যই তাদের জন্য সমাজকে চিন্তা করতে হবে। এসব হোটেলের খাদ্য তৈরি বিক্রি অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনা করে মূল্য নিলে কোনো সমালোচনার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত মূল্য নিয়ে জনগণের পকেট কাটা কোনো অবস্থায়ই মেনে নেয়া যায় না। এসব বিষয় গুরুত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দেখা দরকার আছে।

শুধু হোটেলের কথা কেন? হাট-বাজারের কথাও চিন্তা করতে হবে। মুদির দোকান থেকে ওষুধের ফার্মেসি পর্যন্ত কেউই সঠিক শৃঙ্খলামতো ব্যবসা করছে না। একই চাল পাশাপাশি দুটি দোকানে ২০০ টাকার পার্থক্যে বিক্রি করা হয়। এক দোকানে একই চাল ১ হাজার ৮০০ টাকা হলে পাশের দোকানে সেই চাল ২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। মূল্যহীন প্যাকেটজাত খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্য এভাবে ইচ্ছামতো দাম দিয়ে বিক্রি করতে অনেক হাট-বাজার, দোকানে, মার্কেটে দেখা যায়।

সারাদেশে এখন পেঁয়াজের মহামারি চলছে। পত্রিকার সংবাদে দেখা যায়, প্রতিদিন বিভিন্ন দেশ থেকে টনে টনে পেঁয়াজ দেশে ঢুকছে। কিন্তু পেঁয়াজ গ্রাহকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পেঁয়াজসহ খাদ্যদ্রব্যের বাজার আসলে কারা নিয়ন্ত্রণ করে সেটাও খুঁজে পাচ্ছি না। এসব মৌলিক নাগরিক অধিকার নিয়ে যেভাবে ইচ্ছামতো কারসাজি হচ্ছে সেটা কোনো অবস্থায় মেনে নেয়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের এতগুলো সংস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন জনগণের মৌলিক অধিকার খাদ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে সেটা বোধগম্য নয়। কোথায় সিন্ডিকেট, কোথায় কারসাজি- সেটা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে খুঁজে বের করতে হবে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা ও সঠিক পন্থায় জনগণ তাদের জীবন-জীবিকা পরিচালনা করতে না পারলে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। সুতরাং খাদ্যের মান, মূল্য সবকিছু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে।

মাহমুদুল হক আনসারী

চট্টগ্রাম।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

মাহফুজা অনন্যা

আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

Bhorerkagoj