নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারা শুরু

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

চলমান শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিটি সংগঠনে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব উপহার দেয়া হবে >>

ঝর্ণা মনি : ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগে শুরু হলো নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারা। সৎ, ত্যাগী, দক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গনে অভিজ্ঞদের নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এ ধারার সূচনা করল দলটি। নৌকার পালে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে দলের ভেতরে শুরু হয়েছে আত্মশুদ্ধির পালা। এই ঢেউয়ে শুদ্ধ হবে অঙ্গসংগঠন শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগের ধারাবাহিকতায় মূল দল কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। প্রতিটি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন।

একুশ শতকের আধুনিক সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর তৈরি করতে মূল দল আওয়ামী লীগ, দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে গতিশীল নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার দশম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষক লীগে এসেছে নতুন নেতৃত্ব।

দীর্ঘ ৭ বছর পর জাঁকজমকপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পেল কৃষক লীগ। নবনির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আগামী সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া দলের সাংগঠনিক সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা দেবেন। এর আগে গতকাল বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কৃষক লীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ওবায়দুল কাদের সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির নাম ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে সভাপতি পদে ১৩ জন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করেন কাউন্সিলররা। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে ১১ জনের নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করেন তারা। পরে প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতার সুযোগ দেয়া হয়।

কৃষক লীগের নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র চন্দ। দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। সংগঠনের জন্মের পর থেকে শীর্ষ দুই পদের একটিতে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমে চমক দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। চমক থাকবে আগামী শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেও।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতে, চলমান শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার প্রতিটি সম্মেলনের মাধ্যমে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব উপহার দেয়া হবে। ক্ষমতার টানা ১১ বছরে জমা হওয়া জঞ্জাল থেকে দলকে ক্লিন করার উদ্যোগ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এবার বিতর্কিত-অনুপ্রবেশকারী মুক্ত হচ্ছে দলের সব সংগঠন। সদ্য ঘোষিত কৃষক লীগের কমিটির মাধ্যমে এই বার্তাই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই ধারা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এই নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু। দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব উপহার দেবেন শেখ হাসিনা। শুদ্ধি অভিযানের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা রেখে, সঙ্গতি রেখে যেন স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্ব নেতৃত্বে আসতে পারে, সেদিকে নেতাকর্মীদের নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বেলা ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং উত্তোলন করেন তিনি। সংগঠনের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন সদ্য সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা। সম্মেলনস্থলে দেশাত্মবোধক ও কৃষক লীগের দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের পরিবেশনা উপভোগ করেন। এরপর সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কৃষক লীগের সাংগঠনিক নেতা শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে নেতাকর্মীদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মত্যাগের রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র লক্ষ্য ছিল বঞ্চিতদের ভাগ্যোন্নয়ন। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই উন্নত সমৃদ্ধশীল দেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষি খাতে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। গত ১১ বছরে আমরা কৃষি খাতে ৬৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের প্রবৃদ্ধি আজ ৮ দশমিক ১৩। এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কৃষকের। আমরা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন পুষ্টির দিকে নজর দিয়েছি। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফলমূল এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে একটি মানুষও যেন গৃহহারা না থাকে, তাদের প্রত্যেকের যেন মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়, আমরা সেই ব্যবস্থা করছি। কৃষি খাতে গবেষণার গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা গবেষণার মাধ্যমে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করছি। বর্তমানে দেশেই গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সবজি ১২ মাসই উৎপাদন করা যাচ্ছে। আমরা কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে ই-কৃষি চালু হয়েছে। কৃষকরা যে কোনো সমস্যার সমাধানে ‘১৬১২৩’ নম্বরে কল করে জানতে পারেন। এ সময় যত্রতত্র শিল্প-কারখানা করতে দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সরকারপ্রধান।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মোতাহার হোসেন মোল্লা। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন খন্দকার শামসুল হক রেজা। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সর্বভারতীয় কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার প্রমুখ।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj