হল ছাড়ার পরও জাবিতে আন্দোলন অব্যাহত : মুখোমুখি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক ও জাবি প্রতিনিধি : ছাত্রলীগের হামলার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ভিসির অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দিনব্যাপী মিছিল ও বিক্ষোভ শেষে বিকাল থেকে ফের ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হলগুলো থেকে পুলিশি তল্লাশির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে প্রশাসন। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হলের ক্যান্টিন ডাইনিং। এমনকি ক্যাম্পাসের ভেতরের সব ধরনের খাবার দোকানও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও এরপর মঙ্গলবার উপাচার্যপন্থি শিক্ষক এবং শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এ ঘটনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়লেও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বন্ধের ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছে। রাতে দুটি ছাত্রী হল থেকে মেয়েরা হল ভ্যাকেন্টের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান নেয়। রাত ১১টায় কর্মসূচি স্থগিত করে হলে ফিরে আন্দোলনকারীরা। এদিকে গতকাল বুধবার সকালে ছাত্রীদের অনেকেই আজ সকালে হল ছাড়েন। একাধিক ছাত্রী জানিয়েছেন, হল ছাড়তে হল প্রশাসন তাদের চাপ প্রয়োগ করছে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা গতকাল সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের পাশে মুরাদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন আন্দোলনরত-শিক্ষার্থীরা। পরে ভবনটির ফটক আটকে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় হল ভ্যাকেন্ট মানি না, মানবো না। যে ভিসি হামলা করে, সেই ভিসি চাই না। এমন সব ¯েøাগানে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করছে আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে ক্যাম্পাসে অসংখ্য পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। যে কোনো সময় পুলিশি অ্যাকশন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবমিলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় প্রভোস্ট কমিটি। এর মধ্যে হল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল দুপুর ২টার দিকে হল প্রভোস্ট কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। দূরদূরান্তের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ওই নির্দেশনা নমনীয় থাকে। ইতোমধ্যে ছাত্রীদের হল খালি হয়ে গেছে। ছাত্র হলে অনেকেই এখনো অবস্থান করছে। তাদের বেলা সাড়ে ৩টার মধ্যে হল ছাড়তে হবে। নইলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। হলসংলগ্ন খাবার দোকানগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হল ছাড়ার সময়সীমা কয়েক দফা পিছিয়েও তাতে কর্ণপাত না করায় পুলিশ ডেকে হলে হলে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, অধিকাংশ হল খালি হয়ে গেছে। হলগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয়া হবে। এরপরও সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে যদি কেউ হলে অবস্থান করে তবে এর জন্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না।

প্রভোস্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে গতকাল বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য অপসারণ মঞ্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর বিকাল ৪টা থেকে আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বাসভবনের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংহতি সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। উপাচার্যের বাসভবন ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে পুলিশ। পুলিশের সামনেই আন্দোলনরত শিক্ষকরা অবস্থান নিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতিকে অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আ আ ম স অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, পরিস্থিতি এড়ানোর আগেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা উচিত ছিল। যে অভিযোগগুলো ছিল সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে যদি ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই অবস্থা নাও আসতে পারতো। সেটা হয়নি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj