ট্যাক্সি চড়ে আকাশে

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : আকাশে সিঁদুরে মেঘ। উল্টো ডাঙার ব্রিজটা মেরামতের জন্য গাড়িগুলো সব রাজারহাট দিয়ে ঘুরছে। আপনি ঘড়ি দেখছেন। নটা পনেরোর ফ্লাইট। পৌঁছবে এগারোটা চল্লিশে। এমএনসি কোম্পানিতে দুটোয় মিটিং। ছত্রপতি শিবাজিতেই লাঞ্চ সেরে নিতে হবে। ধোসা আর চা। সামনে লম্বা গাড়ির সারি। অতি মন্থর গতি। প্লেনটা মিস না হয়! টপ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে মিটিং। আপনি ভাবছেন, এই সময় যদি আকাশ দিয়ে উড়ে ট্যাক্সিটা এয়ারপোর্টে যেতে পারত। এই ধরনের ভাবনা এখন একেবারেই অবাস্তব নয়। আরবান এয়ার মোবিলিটি বা ইউএএম। স্বয়ং নাসা থেকে শুরু করে বিশে^র সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এখন এই প্রযুক্তির বাস্তবায়নের জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে।

ষাটের দশক। রাইট ব্রাদার্সের দৌলতে বিমান তত দিনে আমাদের বাস্তব জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠেছে। অ্যাম্বাসেডর ফিয়েট করভেটেরও তত দিনে ছড়াছড়ি। কিন্তু উড়ন্ত ট্যাক্সি নিয়ে কেউ খুব একটা মাথা ঘামাননি। এ সময় দ্য জেটসন’স নামে কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক এক সিটকম মার্কিন টেলিভিশনে খুব জনপ্রিয় হয়। ছেলেমেয়ে, রোবট পরিচারিকা ও কুকুর নিয়ে সস্ত্রীক জর্জ জেটসন থাকতেন অরবিট সিটির স্কাইপ্যাড অ্যাপার্টমেন্টে। অফিস, স্কুল, বেড়াতে যাওয়ার সব কিছুতেই জেটসনরা ব্যবহার করত ছোট নিজস্ব উড়োযান। এখনকার ভাষায় জেট ট্যাক্সি।

এবার ক্লোজআপ একুশ শতকে। ২০০১ সালে নাসা ল্যাঙ্গলে থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে প্রথম স্মল এয়ারক্রাফট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম তৈরির প্রস্তাবনা। বলা হয়, ২০০৫ সালের মধ্যে নাসা প্রায় ৭ কোটি ডলার ব্যয় করে এমন এক ছোট জেট ট্যাক্সি তৈরি করবে, যা হাইওয়ের দৈনন্দিন জট ও বিমান ট্রাফিকের অনিশ্চয়তা থেকে যাত্রীদের মুক্তি দেবে। প্রাইভেট গাড়ির মতো ব্যক্তিগত কাজেই এই উড়োযানগুলো ব্যবহার করা হবে। শুধু শহর নয়, গ্রামের মানুষও এতে উপকৃত হবেন।

ইউএএম, জেট ট্যাক্সি বা ফ্লাইং কার। ছোট এই বিমানগুলো ট্যাক্সির মতোই অল্প দূরত্বের কোনো গন্তব্যে নিয়ে যাবে। ৫০০-২৫০০ কেজির এই যানগুলোতে ৫০-২৫০ কেজি ওজন বহন করা যাবে। বিশেষত ব্যাটারি শিল্পের প্রচুর উন্নতি হওয়াতে ছোট বিমানগুলো ইদানীং ব্যাটারিচালিত করা সম্ভব হয়েছে। এতে তেল, পোড়া, ধোঁয়ার কার্বন দূষণ নেই। ফলে ইলেকট্রিক ভারটিকল টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং সংক্ষেপে ই-ভিটল বলে একটা কথা আজকাল খুব শোনা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে এয়ারবাস, উব?ার থেকে শুরু করে আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার কমবেশি একশটি ছোট-বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইউএএম সেক্টরে নেমে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০৩৯ সালের মধ্যে এই সেক্টরের লগ্নিমূল্য হবে দেড় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অতএব, ছোট-বড় কেউই পিছিয়ে থাকছেন না। গুগলের সৃষ্টিকর্তা ল্যারি পেজ সম্প্রতি কিটি হক করপোরেশন নামে একটি ছোট কোম্পানিকে দুটি ইভিটল তৈরির প্রজেক্টে মূলধন জুগিয়েছেন। প্রথম প্রজেক্ট কোরা। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে দুই প্যাসেঞ্জারের এই হাওয়া গাড়ির উদ্বোধন করা হয়। কোরার ফ্লাইট টেস্টিং হয়েছে ক্যালিফর্নিয়া আর নিউজিল্যান্ডে। দ্বিতীয় প্রজেক্ট, কিটি হক ফ্লায়ার। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে সমান বিচরণের জন্য এই মাল্টিকপ্টারের সৃষ্টি। এতে দশটি রোটর বা ঘূর্ণিপাখা আছে। আছে ডিস্ট্রিবিউটেড ইলেকট্রিক প্রোপালশন বা ডিইপি নামে এক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা। কিটি হক নর্থ ক্যারোলিনার বিখ্যাত শহর। এখানে ১৯০৩ সালে রাইট ভ্রাতৃদ্বয় তাদের প্রথম বিমান উড়িয়েছিলেন। পেজ আরো একটি কোম্পানিতে টাকা ঢালছেন। এদের হাওয়া গাড়ির নাম ব্লু্যাক ফ্লাই। অত্যাধুনিক কম্পোজিট পদার্থ দিয়ে তৈরি বলে খুব হালকা। ইতোমধ্যে ১৪০০ ফ্লাইট টেস্ট হয়েছে। ১২ হাজার মাইল উড়েছে কালো মাছি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj