টাকার টুকিটাকি

বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯

আধুনিককালে আমরা টাকা হিসেবে সাধারণত কাগুজে নোট বা ধাতব মুদ্রা ব্যবহার করি। কিন্তু প্রাচীনকালে ‘টাকা’ হিসেবে অনেক মজার আর অদ্ভুত বস্তুকে কাজে লাগিয়েছে মানুষ। এর মধ্যে আছে পাথর, বীজ, পুঁতি, ঝিনুক, পাখির পালক, বাঁশ, হাড়, গরু, পশম, তামাক, ডিম, পেরেক, লবণ এমনকি দাঁত পর্যন্ত। আমাদের দেশে ‘কড়ি’ নামে পরিচিত এক ধরনের সামুদ্রিক শামুক টাকা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

মুদ্রা বা অর্থ প্রচলনের আগে লেনদেনের ক্ষেত্রে বিনিময় প্রথাই সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল। ছোট্ট, বহনযোগ্য, স্থায়ী আর সহজে লেনদেনের যোগ্য হওয়ার কারণে ধাতব মুদ্রা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধাতুর মূল্যের কারণেই মুদ্রার মান ও মূল্যের তারতম্য ঘটে। সোনা, রুপা, তামাসহ আরো নানা ধাতুতে গড়া মুদ্রার খোঁজ পাওয়া যায়। তুর্কির লিডিয়া অঞ্চলে প্রায় ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন ছিল। মুদ্রার দুই পিঠে যে শিল্পকর্মগুলো থাকে সেগুলো সাধারণত কোনো দেশের ঐতিহ্য, গুরুত্বপূর্ণ স্থান, মানুষের জীবনযাপন, সমাজব্যবস্থা এসব বর্ণনা করে।

সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে মিসরে ধাতব আংটি টাকা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ৩ হাজার বছর আগে চীনে ধাতব মুদ্রার প্রচলন ঘটে। প্রথমবারের মতো চীনেই কাগুজে টাকার প্রচলন ঘটেছিল, সেটা এখন থেকে ১৩০০ বছর আগের কথা। ষোড়শ শতকের শেষদিকে কানাডায় তাসের মধ্যে গভর্নরের স্বাক্ষর সংবলিত পাতাটি অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

উত্তর আমেরিকায় ঔপনিবেশিক আমলে ওয়াম্পাম নামে পুঁতির মালা মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ইয়াপে রাই বা ফে নামে পাথরের চাকাকে অর্থ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এগুলোর ব্যাস ছিল ০.০৩ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় চাকাগুলোর ওজন হতো ২২৫ কেজি পর্যন্ত। ফে মুদ্রাগুলো এক ধরনের পাথরের চাকা যার মাঝখানে ফুটো করা থাকত। সেই ফুটোয় শক্ত লাঠি ঢুকিয়ে বহন করা হতো বিশাল আকৃতির মুদ্রাগুলো। বিয়ের উৎসব কিংবা যুদ্ধকালীন অবস্থায় সন্ধি স্থাপন করতে এগুলো নিয়মিত ব্যবহার হতো। কখনো কখনো একটি মুদ্রার দামই হতো একটা আস্ত গ্রামের চেয়ে বেশি। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এসব বিশাল আকারের পাথুরে মুদ্রা ব্যবহার হতো।

বর্তমান বিশ্বে ইলেক্ট্রনিক তথ্যের আকারে অর্থের লেনদেন হচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাহায্যে তা আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ভাষাবিদদের মতানুসারে টাকা শব্দটি ‘টঙ্ক’ শব্দ থেকে এসেছে। ‘টঙ্ক’ শব্দের মানে হলো ‘রৌপ্যমুদ্রা’। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের মুদ্রার নাম টাকা রাখে। এক টাকার শতাংশকে পয়সা নামে অভিহিত করা হয়। প্রচলিত টাকার পাশাপাশি অনেক সময় কোনো বিশেষ উপলক্ষে স্মারক মুদ্রাও প্রকাশ করা হয়।

:: অনন্ত আহমেদ

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj