পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে উদ্যোগ জরুরি

বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯

কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কৃষি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি এবং সম্প্রসারণ কর্মীদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফলে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর শাকসবজি, ফলমূল ও সুগন্ধী চালসহ নানা প্রকার কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়, সেই বাংলাদেশে কেন পেঁয়াজের সংকট হবে? বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সারাদেশে বিশেষ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইলে রয়েছে পেঁয়াজ চাষের জন্য দক্ষ কৃষক। আছে বছরে ২ থেকে ৩ বার চাষ করার মতো উচ্চ ফলনশীল অনেক জাত।

২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কারণে ৪০ টাকা থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকা। পেঁয়াজের মতো একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম চার গুণ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বল্প আয়ের ভোক্তা সাধারণ পড়েছে চরম বিপদে। দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নিলে পেঁয়াজ নিয়ে এমন সংকট মাঝে মধ্যেই তৈরি হবে। আলু ছাড়া অন্য কোনো পণ্যের সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ভরা মৌসুমে দাম নিশ্চিত করা গেলে আর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যাবে। ক্যাবের সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে আমরাও সহমত পোষণ করি। পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালীন পেঁয়াজের চাষ, পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ ও পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়ার হাউস নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২৪ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে প্রতি বছর বিদেশ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যার সিংহভাগ আসে ভারত থেকে। সামান্য পরিমাণ আসে মিয়ানমার, মিসর ও চীন থেকে। সে হিসাবে চাহিদার ৫৪ ভাগ পূরণ হয় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে এবং বাকি ৪৬ শতাংশ পূরণ হয় বিদেশ থেকে আমদানিকরা পেঁয়াজের মাধ্যমে। এক কথায় সংকট নিরসনে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে, পেঁয়াজ চাষে ও সংরক্ষণে দিতে হবে প্রণোদনা। যাতে কৃষক আমন ধান কাটার পর আলুর পরিবর্তে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হন। ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার এ বছর কৃষকদের প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে হলে উৎপাদন এলাকায় মসলা চাষের ওপর কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পেঁয়াজ চাষের আর একটি সমস্যা হলো সংরক্ষণ। পেঁয়াজ সংরক্ষণের সুবিধা পেলে এবং পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পেলে অবশ্যই পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াবেন। আর বাংলাদেশকেও পেঁয়াজের জন্য ভারতের ওপর এত নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। বাংলাদেশ খাদ্যশস্য ও শাকসবজির মতো পেঁয়াজ উৎপাদনেও হবে স্বনির্ভর। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবে। বাঁচবে দেশের কষ্টে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা।

নিতাই চন্দ্র রায়

গোপালপুর, নাটোর।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

মাহফুজা অনন্যা

আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

Bhorerkagoj