নতুন করে অঙ্গসংগঠন সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু আওয়ামী লীগের

বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯

ঝর্ণা মনি: নতুন করে অঙ্গসংগঠন সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাম্প্রতিক সময়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর বিতর্কিত কার্যকলাপ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো কাণ্ডে নাম জড়িত থাকা, অর্থের বিনিময়ে গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে পদ-বাণিজ্যের কারণে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ পরিস্থিতিতে সংগঠনগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন তিনি। অব্যাহতি দেয়া হয়েছে যুবলীগ চেয়ারম্যান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। নতুন কমিটিতে বিতর্কিত, অনুপ্রবেশকারীদের সংগঠনের কোনো পদে ঠাঁই না দেয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। আজ কৃষক লীগের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হবে ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কংগ্রেসের মধ্যে দিয়ে। আওয়ামী লীগের সহযোগী এই দুটি সংগঠনের মাঝে আরো দুটি সংগঠনের সম্মেলন হবে। এর মধ্যে ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগের সম্মেলন এবং ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন।

সূত্রমতে, সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আসছে নতুন মুখ। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ক্লিন ইমেজ, দক্ষ এবং বঞ্চিতদের দায়িত্ব দেয়া হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসবে। এতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় থাকবে। নতুন কোনো কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী ও দুর্নীতিবাজদের কোনো সুযোগ থাকবে না।

নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্মেলনে এবার সাজসজ্জার প্রাধান্য থাকবে না। কারণ, সামনের বছর মুজিববর্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে। এদিকে পরবর্তী সংগঠনগুলো সম্মেলনের মূল মঞ্চ ঠিক রেখে শুধু কারুকাজ ও সাজসজ্জা নতুনভাবে করবে। অনুমতি পেলে নৌকার আদলে মঞ্চ সাজাতে চায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

বদলে যাচ্ছে কৃষক লীগ : খোলনলচে বদলে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ। পরিবর্তন আসছে নিজস্ব মনোগ্রাম ও ¯েøাগানে। বাড়ছে কার্যনির্বাহী সদস্য সংখ্যা। সংযোজিত হচ্ছে নতুন পাঁচটি সম্পাদকীয় পদ। নেতৃত্বে আসছে নতুন মুখ। শর্ত আরোপিত হচ্ছে প্রবাসী কমিটিতে। দীর্ঘ ৭ বছর গঠনতন্ত্রে এসব পরিবর্তন নিয়ে আজ কৃষক লীগের দশম জাতীয় সম্মেলন।

আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করা হবে। কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বিটু ভোরের কাগজকে বলেন, সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চ সাজানো হয়েছে গ্রাম বাংলার কাছারি ঘরের আদলে। থাকবে ‘আমার বাড়ি আমার খামার?’ প্রকল্পের প্রতীকী রূপও।

এদিকে ৭ বছর পর সম্মেলনকে ঘিরে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। সংগঠনের সভাপতির পদে আসতে প্রতিযোগিতা করছেন এক ডজন নেতা। সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন হাফ ডজন নেতা। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষকদের অধিকার নিয়ে যারা কাজ করতে চান এমন ব্যক্তিদের নিয়েই সাধারণত কৃষক লীগকে সাজানো হয়ে থাকে। যারা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তাদের দায়িত্ব দেবেন। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা ভোরের কাগজকে বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে আমাদের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনেক। সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে একটি সুন্দর নেতৃত্ব আসবে। যারা আগামীতে শেখ হসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj