ক্যারম খেলা

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০১৯

ক্যারমবোর্ডে ক্যারম খেলা হয়। অনেকের বাড়িতে ক্যারমবোর্ড আছে। অনেকেই ক্যারম খেলে থাকবে। এটি একটি বিদেশি খেলা। এখন অবশ্য আমাদের দেশেও বেশ প্রচলিত। চার কোণে পকেটওয়ালা উঁচু বেড় দেয়া চৌকো একটা কাঠের বোর্ড বা তক্তির নাম ক্যারমবোর্ড। এ বোর্ডের মাঝখানে একটি লাল ঘুঁটি এবং নয়টি করে সাদা ও কালো ঘুঁটি রেখে স্ট্রাইকার দিয়ে আঘাত করে বা টোকা মেরে পকেটে ঘুঁটি ফেলতে হয়। যে আগে নিজের সব ঘুঁটি ফেলতে পারবে, সেই জিতবে। সাধারণত দুজনে বা চারজনে ক্যারম খেলা হয়।

ক্যারমের আবিষ্কার দক্ষিণ এশিয়ায়। কেউ কেউ বলেন, খেলাটা প্রথম শুরু হয় শ্রীলঙ্কায়। অনেকে বলেন, ভারতীয়রাই এক সময় খেলাটা ছড়িয়ে দেয় শ্রীলঙ্কায়। আবার অনেকে বলেন পর্তুগালে। আবিষ্কারের পর সারা পৃথবীতে যখন ছড়িয়ে পড়ল খেলাটা তখনই বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে খেলা হতো। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুলগুলোতে ১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত আমেরিকান পদ্ধতি অনুযায়ী ক্যারাম খেলা হতো। এই ক্যারম বোর্ডে আবার ছয়টি পকেট থাকতো। খেলার নিয়মটা ছিল অনেকটা বিলিয়ার্ডের মতো।

ক্যারমের আরেকটা নাম ফিঙ্গার বিলিয়ার্ডস। আমেরিকায় ১৮৯০ সালে শিক্ষক হেনরি হাস্কেল এই খেলার প্রচলিত নিয়মে বদল এনেছিলেন। তিনি স্ট্রাইকারটিকে অনেক হালকা করলেন আর এর ঘুঁটিগুলো বদলে রিংয়ের আকার দিলেন। আজো এই ধরনের ক্যারাম খেলার রীতি আছে। মেক্সিকো ও জাভায় এক সময় কাঠের ক্যারাম বোর্ডের ওপর বোতলের গোল ঢাকনাকে ঘুঁটি করে খেলা হতো। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ ক্যারাম ফেডারেশন গঠিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্যারম প্রতিযোগিতায় বসে খেলা বাধ্যতামূলক। কাঠের ঘুঁটি দিয়ে খেলতে হবে। এখানে বোর্ড পিচ্ছিল করা হয় বরিক পাউডার দিয়ে। এ ছাড়া স্ট্রাইকারের চেয়ে বোর্ডের পকেট অনেক বড়। পকেটে স্ট্রাইকার পড়ে গেলেই পেনাল্টি। পকেটে ঘুঁটি ফেলার ব্যাপারে এখানে সবাই দাবাড়ুর মতো ভাবুক।

:: খেলা প্রতিবেদক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj