মশা নিধন অভিযান সারা বছর চলুক

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০১৯

মশা নিয়ে দুর্ভাবনা কিছুতেই কাটছে না। সরকার ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এ নিয়ে ভুগছে উৎকণ্ঠায়। দেশে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে প্রাণহানির সংখ্যা কম নয়। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ এখনো আশঙ্কাজনক। ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার বিস্তার ঘটে মশার মাধ্যমে। বিশেষত মশার আগ্রাসন রাজধানীর পৌনে ২ কোটি মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মশা নিধন কার্যক্রমে ফাঁকফোকর থাকায় এ ক্ষুদ্র কীটের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। রাজধানীর বিশেষত শহরতলির ডোবা-নালাগুলো মশা উৎপাদনের উর্বর ক্ষেত্র। এগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কোনো উদ্যোগ না থাকায় মশার উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশন তাদের বাজেট বাড়ালেও ফল হতাশাজনক।

অভিযোগ রয়েছে, মশা নিধনের বরাদ্দকৃত অর্থের এক বড় অংশই চলে যায় লুটেরাদের পকেটে। মশা নিধনে যে ‘ওষুধ’ ছিটানো হয় তার মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ফলে প্রতি বছর মশা নিধনের বাজেট বাড়লেও নগরবাসীর স্বস্তিদানে তা দৃষ্টিগ্রাহ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। মশা নিধনে নীতি-নির্ধারকদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও প্রশ্ন রয়েছে বাস্তবায়ন পর্যায়ে। নগরবাসীর স্বস্তিদানে কাক্সিক্ষত ফল পেতে হলে মশা নিধন কার্যক্রমের সর্বস্তরে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

মশা নিধন ব্যবস্থাপনা নগর পরিকল্পনার নজরদারিতেই শুধু নয়, সারা বছর ধরে এমন কর্মযোগ চালানোও অপরিহার্য। বৃষ্টির স্বচ্ছ পানি মশা উপদ্রবের উৎস হলেও সারা বছর কোনো না কোনো মশা চারপাশের মানুষদের অস্থির করে তোলে। প্রতিবারই সেপ্টেম্বর থেকে এডিস মশার জ্বালাতন বাড়লেও এবার প্রায় দুই মাস আগে থেকেই এই ছোট কীটটির আবির্ভাবে জনগণের প্রাণ একেবারে ওষ্ঠাগত। এমন সাবধানতা আগে থেকেই ঘোষণা করা হলেও নগর কর্তৃপক্ষ মোটেও আমলে নেয়নি। শুধু তাই নয়, ডেঙ্গু ছড়ানোর পরও কার্যকরী ওষুধের অভাবে গত এক মাস এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। অথচ যেখানে সারা বছরই মশা নিধনের ওষুধপত্র যথেষ্ট পরিমাণ থাকা বাঞ্ছনীয়।

শুধু ডেঙ্গু কেন, ম্যালেরিয়াও তো মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ। অ্যানোফিলিস এবং কিউলেক্স মশার কামড়ও যে কত বিপজ্জনক তেমন দুরবস্থাও আমাদের জানা। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মর্মবেদনায় সারাদেশ যখন প্রকম্পিত তখন মশার ওষুধ ছিটালেও তার কোনো কার্যকারিতা দৃশ্যমান না হওয়ায় সাধারণ মানুষ হতবাক এবং মর্মাহত। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নগর কর্তৃপক্ষের বিশেষভাবে লক্ষ রাখা উচিত, সাধারণ জনগোষ্ঠী সুস্থ দেহে নিরাপদ আর নির্বিঘ্নে যেন তাদের প্রতিদিনের জীবন কাটাতে পারে। সরকার এবং নগর কর্তৃপক্ষের দাবি- নতুন ও কার্যকরী ওষুধ এবার বিভিন্ন জায়গায় ছিটানো হবে। পাশাপাশি জনগণের সতর্কতা এবং সচেতনতার ঘাটতি হলে পরিস্থিতি বেসামাল হতেও সময় নেবে না। সারা বছর যে কোনো সময় মশার কামড় এবং বংশবিস্তার এক অপরিহার্য বিষয়। এমন সব ব্যাপারকে মাথায় নিয়ে মশক-নিধন অভিযান সারা বছরই চালাতে হবে। সব সময় ওষুধপত্রও মজুদ রাখা বাঞ্ছনীয়। মশানাশক ওষুধ যদি দেশে প্রস্তুত করার বিষয়েও নজর দেয়া দরকার। মশা নিধন প্রক্রিয়াকে সারা বছর গতিশীল করতে পারলে মশা এবং পানিবাহিত সব রোগবালাই নির্মূল হতে সময় নেবে না। সচেতন জনগোষ্ঠীও সেটাই প্রত্যাশা করে।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা
সহসভাপতি, এফবিসিসিআই।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার

বায়ুদূষণ রোধে করণীয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

রাষ্ট্রের স্বভাব ও চরিত্র

মাহফুজা অনন্যা

পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

Bhorerkagoj