অভিযাত্রী থেকে ‘ডটার অব দ্য আর্থ’

সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০১৯

অন্যপক্ষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিগত ১৯ বছর বিশে^র বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন নাজমুন নাহার। উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, নারীর সমতা ও ক্ষমতায়নসহ সব জাতি, ধর্ম, বর্ণে মানুষের মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়া। ২০০০ সালে মধ্যপ্রদেশে প্রথম ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ এডভেঞ্চার প্রোগ্রামের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাজমুন নাহারের প্রথম অভিযাত্রা শুরু হয়। তাকে যাত্রা পথে নানান প্রকিূলতাতেও পড়তে হয়েছে। অন্তত পাঁচবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন নাজমুন। এ পর্যন্ত লাল সবুজের পতাকা হাতে একাই পাড়ি দিয়েছেন ১৩৫টি দেশের সীমানা। এর স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অ্যাওয়ার্ড ‘পিচ টর্চ অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘ডটার অব দ্য আর্থ’ উপাধি।

১৩৫ দেশ ভ্রমণের ঐতিহাসিক রেকর্ড অর্জনের পর নিউইয়র্কে এই উপাধি পেলেন নাজমুন। এর আগে এই সম্মননায় ভূষিত হয়েছেন মাদার তেরেসার মত মহা মনীষী ও বিশ্ব বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়করা। ২৭ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের ‘শ্রী চিন্ময় ওয়াননেস হার্ট সেন্টারের এসপিরেশন গ্রাউন্ডে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদ নিউজিল্যান্ডের হরিতা নাজমুনের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।

ইতিবাচক চিন্তা, প্রচন্ড আত্মপ্রত্যয়, মেধা, মনন নাজমুনকে এতদূর নিয়ে এসেছে। তবে এতেই থামতে চান না নাজমুন। ২০২১ সালের মধ্যে তিনি জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাইলফলক সৃষ্টি করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সর্বাধিক রাষ্ট্র ভ্রমণকারী প্রথম বাংলাদেশি নাজমুনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের লক্ষীপুর জেলায়। শৈশব কেটেছে লক্ষীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামে। তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমুন সবার ছোট। জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসাহ ছিল বাবা, দাদা ও বই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য সুইডেনে পাড়ি জমান নাজমুন। সেখানে লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন তিনি। সুইডেনে থাকা অবস্থাতেই বিশ্বজয়ের নেশাটা পেয়ে বসে নাজমুনকে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করতেন। কষ্টার্জিত সেই অর্থের প্রায় পুরোটাই ব্যয় করেন।

একজন বাংলাদেশি নারী হিসেবে দীর্ঘ ভ্রমণে নাজমুন কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হননি। তার মতে, নারীর প্রতিবন্ধকতা মূলত একটা মানসিক সংগ্রাম, একটা সামাজিক ভীতি। এ ভয়কে জয় করতে পারলে সবকিছুই সহজ হয়ে যায়। সাহস আর আত্মবিশ্বাসের কারণে তার কোন অসুবিধা হয়নি। অভিযাত্রায় নানা প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন; কিন্তু তা একজন নারী হিসেবে নয়, একজন বিশ্ব অভিযাত্রী হিসেবে।

তিনি মনে করেন, জীবনের কোনো প্রতিবন্ধকতাই বড় কোনো সমস্যা নয়। যদি সব কঠিনকে মোকাবেলা করার মানসিক শক্তি থাকে। জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মানসিক চ্যালেঞ্জ। যা অতিক্রম করতে পারলেই জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব।

নিউইয়র্কে ‘পিস টর্চ আওয়ার্ড’ পাওয়ার আগে নাজমুন দেশি-বিদেশি অনেক সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj