তথ্যপ্রযুক্তিই রেজওয়ানার ধ্যান জ্ঞান

সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০১৯

নাজমুল হক ইমন

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন অঙ্গনে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ছুটে চলছেন রেজওয়ানা খান। শ্রম, মেধা এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছেন বহুমুখী কাজে। রেজওয়ানা একজন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, পরামর্শক এবং বিনিয়োগকারী। সরকারি কয়েকটি প্রকল্প, বহুজাতিক ও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। বাংলাদেশ উইম্যান ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রেজওয়ানা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এ পর্যন্ত আসতে তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে নানা বাধাবিপত্তি।

বাবা আলী আকবর খান। স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। দেশের যে ক’জন পথিকৃৎ আইটি ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। সেই বাবার দেখানো পথেই হাঁটছেন রেজওয়ানা। তিনি স্টার কম্পিউটার সিস্টেম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। শুধু ব্যবসায়ী হিসেবে নয় রেজওয়ানা স্বপ্ন দেখেন দেশের সুপার টেকনোলজি নিয়ে। স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে। বাবাকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতে দেখেই নিজের মধ্যে এই স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন রেজওয়ানা। তাই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পড়ার সময়ই চিন্তা করেন ব্যবসা করবেন এবং সেটি তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই। সেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন প্রতিনিয়ত। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স (সিএসই) ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেই ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া থেকে সফটওয়্যার সিস্টেম ডিগ্রি নিয়েছেন। সেখানকার দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে উচ্চ ডিগ্রি নেন। তারপর ইউনিভার্সিটি অব সাউর্দান কুইন্সল্যান্ড থেকে ইমপাওয়ার উইম্যান থ্রট ইন্টারপ্রেনিয়ারশিপ এন্ড বিজনেসে ফেলোশিপ অর্জন করেন। বাবার প্রতিষ্ঠান থেকেই ব্যবসাতে হাতেখড়ি তার। নিজেদের প্রতিষ্ঠান হলেও ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল তিনি প্রতিষ্ঠানের বিজনেস এন্ড সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। এরপরই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর এন্ড সিইও পদে যুক্ত হন।

রেজওয়ানা বলেন, স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৮ সালে লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করছে আমাদের কোম্পানি। আর আমাদের কোম্পানির মূল কাজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন ইমপ্লিমেন্টটেশন ডেভেলপমেন্ট এন্ড কনসালটিং। আমরা বাংলাদেশসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে যেসব লেভেলের কোম্পানির কনসালটিং করি এসব প্রজেক্টের সাইজ এবং মূল্যমান কয়েক মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি একটা এইচ আর রিসোর্চ ডেভেলপমেন্ট সেক্টর আছে। বাংলাদেশে এটা ট্রেনিং সেক্টর হিসেবে পরিচিত। আমরা সাধারণত আমেরিকার বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কাজগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয়। কনসালটিংয়ের জন্য একটা বড় টিম রয়েছে। কোম্পানির বিজনেস প্রসেস বুঝে, বিজনেস প্রসেস রিইঞ্জিনিয়ারিং করে কীভাবে হোল সল্যুশন হবে এসব দিক গুরুত্ব দেয়। আর আমাদের কাজের একটা বিশেষ দিক হলো যে কাজই করব তা যেন মানসম্পন্ন হয়।

স্টার কম্পিউটার সিস্টেম শুধু নয়, এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আরো কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্টার কম্পিউটারের মতো আরো দুইটা ভেঞ্চারের কাজ আমি ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। এর মধ্যে একটা হলো নলেজ বেইড কোম্পানি। এখানে শুধু নলেজ লেভেলের কাজ করা হবে। অন্যটি হাই টেকনিক্যাল অ্যাডভান্স লেভেল কোম্পানি। এটা শুধু টেকনোলজিভিত্তিক। এখানে বিশ্বের উন্নত ও সুপার টেকনোলজিগুলো নিয়ে কাজ করা হবে। দেশে ও বাইরে এগুলোর রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হয়েছে।

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে রেজওয়ানা বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি দেশে সুপার টেকনোলজি নিয়ে। সেখানে দেশ এগিয়ে যাবে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে। যাতে তারা দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলে কাজ করতে পারে এবং সঠিক মূল্যায়ন পায়। আমি বরাবরই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করি।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj