ব্যক্তিগত গাড়িতে সাইরেনের ব্যবহার

সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০১৯

পুরো দেশে শব্দদূষণের মাত্রা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরগুলোর অবস্থা আরো করুণ। রাস্তার পাশের বাড়িঘর, অফিস-আদালতে বসবাস করা রীতিমতো দুঃসহ হয়ে পড়েছে। যানবাহনের হর্ন, নানা অনুষ্ঠানের পটকাবাজি, লটারির টিকেট, বৈদ্যুতিক বাল্ব, কসমেটিকসহ এ ধরনের বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রির গাড়ির সঙ্গে ব্যবহৃত মাইকের শব্দে মানুষ দিশেহারা। এসব দূষণের সঙ্গে নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে দামি গাড়িতে সাইরেন বাজানো।

আগে সাইরেন ব্যবহার করা হতো অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের পিকআপসহ অতি প্রয়োজনীয় ও জরুরি কাজে নিয়োজিত বিশেষ কিছু সরকারি গাড়িতে। সেই সময়টাতে সাইরেনের শব্দ শুনলে মনে হতো কোথাও আগুন লাগার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি জানমাল রক্ষায় দ্রুত ছুটে যাচ্ছে অথবা কোনো দুর্ঘটনা স্থলে পুলিশ যাচ্ছে কিংবা অ্যাম্বুলেন্স মুমূর্ষু রোগী বহন করছে। যার ফলে যে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন, রাস্তা থেকে অন্য পরিবহন সরিয়ে ওই সব পরিবহনকে দ্রুত চলাচলের সুযোগ করে দিত। অথচ এই বিশেষ হর্ন এখন ব্যক্তিগত গাড়িসহ অসংখ্য সাধারণ গাড়িতে দেখা যাচ্ছে।

বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশে উল্টো পথে চলা বা সাইরেন বাজিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে কোনো ভিআইপি চলাচল অনুমোদিত নয়। শুধু মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় রাস্তার একপাশ ফাঁকা করে চলাচলের বিধান রয়েছে। তবুও সেক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসকে আলাদা গুরুত্ব দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের স্বঘোষিত ভিআইপিরা রাস্তাঘাটে সামনের গাড়ি থেকে সহজে সাইড পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধার আশায় এবং উল্টো পথে চলাচলের সুবিধা নিতে ব্যক্তিগত গাড়িতে সাইরেন সংযোজন করছেন। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির হর্নের সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির হর্ন মিলে যাচ্ছে। ফলে সাইড দেয়া বা না দেয়া নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ এবং গণপরিবহনের চালকদের।

এভাবে আর কতকাল? এভাবে হেঁয়ালিপনা চলতে থাকলে এবং গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনের হর্ন যেখানে-সেখানে বাজতে থাকলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বোধটুকু আর আশা করা যাবে না। ফলস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের পিকআপ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির সেবাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাইরেন হর্নের যথাযথ ব্যবহার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। তাহলেই সাইরেনের গুরুত্ব বুঝে শব্দদূষণ কমানো, মূল্যবান সময় বাঁচানোসহ আমাদের দেশকে আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে।

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার

বায়ুদূষণ রোধে করণীয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

রাষ্ট্রের স্বভাব ও চরিত্র

মাহফুজা অনন্যা

পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

Bhorerkagoj