পেঁয়াজ সংকট মেটাতে উৎপাদনে জোর দিতে হবে

রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০১৯

পেঁয়াজের বর্তমান বাজারমূল্য সব পর্যায়ের সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলেছে। হঠাৎ করেই নিত্যপণ্য পেঁয়াজের এমন ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সরকারকেও ভাবিয়ে তুলেছে। দেখা যায় উৎপাদন মৌসুমে কম মূল্যের কারণে যেসব পণ্য কৃষকরা রাস্তায় ফেলে দেয় সেসব পণ্যই আবার কিছুদিনের মধ্যেই অধিক মূল্যের কারণে বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। উৎপাদন মৌসুমে এবারো কেজিপ্রতি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ১০-১২ টাকা মাত্র। অথচ গত দুই-তিন মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বরে সেই পেঁয়াজের মূল্য বেড়ে এখন ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আমদানিকারকদের উদাসীনতা অথবা ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এসব সংকট সৃষ্টি হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য কিংবা পরামর্শ না থাকার কারণে সরকারি আমদানি পরিকল্পনা গ্রহণেও বিলম্ব হতে পারে। তবে যেহেতু আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান এবং পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট অনুক‚ল পরিবেশ রয়েছে, কাজেই এখানে কেন আরো অধিক পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন করা হবে না, তা নিয়েই ভাবতে হবে এখন।

সরকার যেসব তথ্য কিংবা পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক ক্রয় বা আমদানি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে সেসব সংস্থার সরবরাহকৃত তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক গরমিল। যার কারণেও হয়তো পরিকল্পনা প্রণয়নে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের (বিবিএস) তথ্যমতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১.৮৬ মিলিয়ন টন উৎপাদন হয়, যার বিপরীতে চাহিদা হলো ২.৪ মিলিয়ন টন। আরেকটি রিপোর্টে দেখা গেছে ২৪ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে প্রতি বছর আমদানি করতে হয় কমপক্ষে ১১ লাখ টন। তবে এটি ঠিক যে, উৎপাদনের মাত্রার নির্ভর করে প্রতি বছর চাহিদা এবং আমদানি ভিন্ন রকম হতে পারে। সেজন্যই প্রয়োজন সঠিক পরিসংখ্যান। তা ছাড়া পেঁয়াজ একটি পচনশীল পণ্য বিধায় তা আমদানি করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সুযোগ নেই। সেজন্য আমদানি পরিকল্পনা হতে হবে নির্ভুল। আমাদের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের ফারাক রয়েছে। সেই ফারাক পূরণ করার জন্যই প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। অথচ পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশের কৃষিতে বিদ্যমান। তাহলে প্রশ্ন আসে সমস্যা কোথায়। সেটি নিয়েই আমাদের ভাবার সময়ে এসেছে।

যেসব জমিতে আলু উৎপাদিত হয় সেসব জমিতেই পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব। কাজেই এখন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে ধান এবং আলুর জমি কমিয়ে দিতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন প্রতি বছর সংশ্লিষ্টদের সঠিক সময়ে সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্য দিয়ে সরকারকে পরিকল্পনা গ্রহণে সহযোগিতা করা। এভাবেই পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে আমাদের এ সংকট মোকাবেলা করলে তা হবে স্থায়ী সমাধান। এতে পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো একটি বা দুটি দেশের ওপরও আমাদের নির্ভর করার প্রয়োজন হবে না। তখন ব্যবসায়ীরাও সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করতে পারবে না। সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আসবে।

মো. হুমায়ুন কবীর
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার

বায়ুদূষণ রোধে করণীয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

রাষ্ট্রের স্বভাব ও চরিত্র

মাহফুজা অনন্যা

পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

Bhorerkagoj