আইএসে বাগদাদি অধ্যায়ের অবসান

শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : গত সপ্তাহে বেশ ঘটা করেই মার্কিন সামরিক অভিযানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির মৃত্যুর খবর দেন। কিন্তু এরপর সিরিয়ায় আইএসের ভবিষ্যৎ কী? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রোগ্রামের পরিচালক লীনা খাতিব বলছেন, আল-বাগদাদির মৃত্যুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইএসের অস্তিত্ব ধ্বংস হবে না। বরং সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে আইএসের এখনকার ভবিষ্যৎ।

আইএসের জন্য বাগদাদি অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন, বিশেষ করে দলটি যখন একটি তথাকথিত রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করে। যেহেতু খলিফা ছাড়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সে কারণে আইএস বাগদাদিকে জনসম্মুখে একজন শক্তিমান নেতা হিসেবে হাজির করে। এ কারণে সিরিয়া এবং ইরাকে আইএসের পতনের পরেও এই গ্রুপের সমর্থকদের বিশ্বাস ছিল একদিন বাগদাদি আবার খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন। সিরিয়ার ভেতরে আল-হোল ক্যাম্পে আইএস যোদ্ধাদের স্ত্রী ও বিধবারা বলেন, বাগদাদির যে কোনো বক্তৃতা তার সমর্থকদের উদ্দীপ্ত করত।

সিরিয়ায় আইএসের মূল কর্মকাণ্ড রয়েছে উত্তর-পূর্বে দেইর আল-যোওর এলাকায়, বিশেষ করে বসাইরার দক্ষিণে দিবানের দিকে। এ এলাকাটি নিযন্ত্রণ করে সিরিয়া ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ), কিন্তু এলাকাটি কুর্দি অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই সংকটে রয়েছে এসডিএফ। উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের অভিযানের আগে, দেইর আল-যোওরে সেখানকার আরব গোত্রসমূহ এবং এসডিএফের মধ্যে নিয়মিত বিবাদ সংঘর্ষ হতো। পরে সেখানে আইএসের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। কয়েক মাস এসডিএফের এক চেকপয়েন্টে একজন আরব পথচারী হত্যার ঘটনা ঘটে।

এখন কী করতে পারে দলটি? এখন বাগদাদির মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে আইএস তার সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনার প্রতিশোধের বার্তা দেবে। কিন্তু শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দলটির যোদ্ধারা যুদ্ধ করে যাবে, এমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যোদ্ধা এখন আর তাদের মধ্যে নাও দেখা যেতে পারে। আইএস হয়তো শিগগিরই বাগদাদির একজন উত্তরসূরি এবং একজন শীর্ষ নেতা চূড়ান্ত করবে। তবে দলটির কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের পরিস্থিতি কেমন থাকছে সে বিষয়টি। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ এখনো কুর্দি যোদ্ধাদের হাতে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় আল-বাগদাদির পালানোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, মৃত্যুর আগে মি. বাগদাদি কাঁদছিলেন, কাতরাচ্ছিলেন। তবে এসব তথ্য সঠিক কিনা তা জেনারেল ম্যাকেঞ্জি নিশ্চিত করতে পারেননি। ট্রাম্প বলেন, বাগদাদি দুটো বাচ্চাকে নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে একটা সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢোকেন এবং তার সঙ্গীসাথীদের চত্বরে ফেলে রেখে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেন। জেনারেল ম্যাকেঞ্জি বলেন, চারজন মহিলা যারা আত্মঘাতী ভেস্ট পরেছিলেন, তারা এবং আরও একজন পুরুষ ঐ চত্বরে নিহত হন। আমেরিকান হেলিকপ্টারের ওপর গুলি চালানোর পর সংঘর্ষে তাদের বেশ কিছু যোদ্ধাও মারা গেছে।

ম্যাকেঞ্জি বলেন, এই অভিযান যেহেতু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই বেসামরিক মানুষের হতাহত হবার আশঙ্কা এড়ানোর জন্য এবং ওই ভবন ও চত্বরে যেসব শিশু আছে বলে আমরা সন্দেহ করছিলাম তাদের সুরক্ষার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা নেয়া হয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আইএস নেতার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আল-বাগদাদি ২০০৪ সালে ইরাকের কারাগারে থাকার সময় থেকে তার ডিএনএ নমুনা আমেরিকানদের ফাইলে সংগ্রহ করা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। আল-বাগদাদির দেহাবশেষ পরিচয় শনাক্ত করার জন্য একটি বিশেষভাবে তৈরি ঘাঁটিতে বিমানযোগে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ‘সশস্ত্র সংঘাতে নিহতদের অন্ত্যেষ্টি বিষয়ক আইন অনুযায়ী’ তার মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে সমুদ্রে দাফন করা হয়।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj