সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ বানাব

শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী নির্মাতা রেদোয়ান রনি তার তৃতীয় সিনেমা নির্মাণ করবেন আগামী জানুয়ারিতে। তার সিনেমাটির প্রস্তুতি ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেছেন মেলার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিমুল আহমেদ

নতুন সিনেমার কাজ শুরু করছেন নাকি?

ছবিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কাহিনী লেখার কাজ চলছে। আমি এবার চাইছি সব কিছু রেডি করে একটা আওয়াজ দিতে। আগামী বছরের শুরুতেই শুটিং করব এবং মুক্তির পরিকল্পনা তখনই।

চোরাবালি ও আইসক্রিম ছিল আলাদা আলাদা গল্পের- ক্রাইম, রোমান্টিক। তৃতীয় সিনেমাটি কি নতুন কোনো ঘরানার বানাবেন?

আমি আসলে জীবনের একটা দর্শন বলার চেষ্টা করব। বলতে পারেন জীবনঘনিষ্ঠ গল্প। জীবনদর্শনের গল্প হলেও বিনোদন থাকবে। এ ধরনের গল্প বলতে গেলে দেখা যায় অনেক সাধামাটা হয়ে ওঠে বা বিরক্তিকর হয়ে ওঠে অনেক সময়।

কিন্তু আমি একটু অন্যরকমভাবে গল্প বলার চেষ্টা করছি। বিনোদনমূলক একটা ছবির মধ্য দিয়ে জীবনের একটা কঠিন বাস্তবতা বলার চেষ্টা। এখন এটা ঠিক কোন ঘরানার হবে চূড়ান্ত চিত্রনাট্য হওয়ার আগে বলা যাবে না।

সবশেষ সিনেমায় সম্পূর্ণ নতুন মুখ নিয়ে কাজ করেছিলেন। এটাতেও কি তাই করবেন?

আমার এখন পর্যন্ত যা ভাবনা, একদমই স¤পূর্ণ নতুন মুখ নেব না। প্রথম সিনেমার মতো তারকাশিল্পী থাকবে, তবে নতুনও থাকতে পারে।

বাংলাদেশি নাকি বিদেশি শিল্পী?

আমি বাংলাদেশের শিল্পী নিয়েই কাজ করতে চাই। যদি ব্যাটে বলে না মিলে তা হলে আমার দ্বিতীয় অপশন হচ্ছে ওপার বাংলার শিল্পী। যদি দেখা যায় কারো সঙ্গে টাকাপয়সা মিলল না, শিডিউল মিলল না, তখন হয়তো দ্বিতীয় অপশনে যাব।

প্রযোজনা সংস্থা এ দেশের?

হ্যাঁ, এ দেশের প্রযোজক। আমার নিজের পপকর্ন এন্টারটেইনমেন্ট থাকবে, সঙ্গে অন্য কেউ থাকবে।

সবকিছু প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় প্রযোজকও ঠিক হয়নি। তবে অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে।

বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ততা?

আমি তো আসলে এখন নিয়মিত বিজ্ঞাপন বানাই। আমার এখন আগ্রহ বাড়ছে ওয়েব সিরিজ বানানোর দিকে। সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ বানাবো।

সিরিজটি সিনেমার আগে বানাবেন নাকি পরে?

এটা সিনেমার আগেই শুটিং শুরু করে দিতে পারি অথবা সিনেমার পাশাপাশি শুট

করতে পারি।

এখন অধিকাংশ ওয়েব সিরিজ থ্রিলার গল্পে নির্মিত হচ্ছে, আপনি কি সে পথে হাঁটছেন?

সবার পথে হাঁটছি ব্যাপারটা তা না। থ্রিলার গল্প পছন্দ হয়েছে সিরিজটির জন্য তাই করা।

দেশের নানা প্রান্তে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর পেছনে কি কারণ বলে আপনি মনে করেন?

এটা শুধু আমাদের দেশে না সারা বিশ্বেই সিঙ্গেল স্ক্রিনের হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব জায়গায় এখন মাল্টিপ্লেক্সগুলোর জয়জয়কার। হতাশার মাঝেও আশার খবর হচ্ছে আমাদের এখানে মাল্টিপ্লেক্স বাড়ছে। আগামী দিনের সিনেমা আসলে মাল্টিপ্লেক্স নির্ভর।

আর দর্শকরা এখন নানা ধরনের ছবি দেখতে চায়। যেটা একটা সিঙ্গেল স্ক্রিনের হলে এক সঙ্গে দেখানো সম্ভব না। মাল্টিপ্লেক্সে যদি তিনটা স্ক্রিন থাকে তাহলে দর্শক তার রুচি অনুযায়ী সহজেই ছবি বাছাই করে নিতে পারে।

এ দেশের সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। আসলেই এর ভবিষ্যৎ কি?

অনেকের মতো আমি শঙ্কিত না। আশাবাদী মানুষ। কারণ সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শক কমলেও মাল্টিপ্লেক্সেও দর্শক বাড়ছে। একই সঙ্গে নেটফ্লিক্স, বায়োস্কোপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর দর্শক বাড়ছে। তবে একটা অ্যাকশন সিনেমা হয়তো সিনেমা হল ব্যতীত অন্য কোনো কিছুতে ভালো লাগবে না। আবার কিছু সিনেমা হয়তো মোবাইলে বসে দর্শক দেখবে। সিনেমা বানানোর আগে টার্গেট দর্শক কারা, তা ঠিক করতে হবে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj