অজানা শোবিজ : সংসারের মায়া ত্যাগ করেছিলেন বিনোদ

শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯

১৯৪৬ সালের ৬ অক্টোবর পেশোয়ারের এক ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম বিনোদ খান্নার। তার জন্মের এক বছরের মধ্যেই দেশভাগ হয়ে যায়। পেশোয়ার তখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে পরিবারের সঙ্গে ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে চলে আসতে হয় বিনোদকে। প্রথমে ভারতের মুম্বাইয়ে তার পরিবার বসতি স্থাপন করে। কয়েক বছর পরে পরিবার আবার দিল্লি চলে যায়। বিনোদ তখন খুবই ছোট। দিল্লি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। তবে পাকাপাকি দিল্লিতে ছিলেন না, পরে আবার একসময় মুম্বাইয়ে চলে যায় পরিবার। বিনোদের বরাবরই সায়েন্স নিয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। মুম্বাইয়ে পড়ার সময় তিনি কলেজ থিয়েটার দলে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই প্রথম স্ত্রী গীতাঞ্জলি তলেয়ার খানের সঙ্গে তার পরিচয়। গীতাঞ্জলির বরাবরই মডেল হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তার ব্যক্তিত্ব বিনোদকে মুগ্ধ করে তুলেছিল। কলেজ পাস করার পর থিয়েটারে তার অভিনয় দেখে সুনীল দত্ত তাকে ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে ফিল্মে ডেবিউ করেন বিনোদ। প্রথম ছবি এতটাই হিট হয়েছিল যে, রাতারাতি বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে যান বিনোদ। পরপর ১৫ ফিল্মে সই করে ফেলেন তিনি। ইতোমধ্যে গীতাঞ্জলির সঙ্গে তার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়। তবে বিয়ের কথা প্রথমদিকে একেবারেই ভাবতে চাননি বিনোদ। ক্যারিয়ারে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭১ সালে গীতাঞ্জলির সঙ্গে বিয়ে হয় বিনোদের। একেবারে আদর্শ স্বামীর ভূমিকা পালন করছিলেন বিনোদ খান্না। একই সঙ্গে পরিবার এবং ক্যারিয়ার সামলাচ্ছিলেন। ১৯৭২ সালে রাহুল এবং ১৯৭৫ সালে ছোট ছেলে অক্ষয় খান্নার জন্ম হয়। রবিবারটা শুধু পরিবারের জন্যই বরাদ্দ ছিল বিনোদের। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এবং বাইরে বিনোদের মহিলা ভক্তের সংখ্যা অসংখ্য হলেও কখনো স্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি তিনি। বিনোদের সেই সুখের পরিবারে হঠাৎ ছন্দপতন! অশান্তি নেমে আসে তার পরিবারের মধ্যে। তার মূলে ছিল বিনোদ খান্নার আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা। আচমকাই তিনি ওশোর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ওশোর চিন্তাধারায় এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, বলি ইন্ডাস্ট্রি থেকেও নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেন। আশ্রম থেকে তাকে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। সংসারের মায়া ত্যাগ করেছিলেন বিনোদ। পরিবারের সঙ্গে সে সময়টা তার দেখা তো দূর, কথাও হতো না ঠিকভাবে। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি। সংসারের প্রতি উদাসীনতা মেনে নিতে পারেননি তিনি। ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিনোদকে ডিভোর্স দিয়ে দেন তিনি। আমেরিকা থেকে বিনোদ খান্না যখন ফিরেছিলেন, তখন তিনি সব হারিয়েছেন। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ক্যারিয়ারও অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি ততদিনে। তবে ইন্ডাস্ট্রি বিনোদের কামব্যাক স্বাগত জানিয়েছিল। ফের নতুন করে শুরু করলেন বিনোদ। অমৃতা সিংহের সঙ্গে তার সম্পর্কও তৈরি হয়। কিন্তু অমৃতার মা এটা মেনে নেননি। পরে কবিতা দফতরি নামে এক মহিলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কবিতাকেই বিয়ে করে নতুন করে সংসার পাতেন বিনোদ খন্না। দ্বিতীয়পক্ষেও তার দুই সন্তান। এই দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম পক্ষের সন্তানরা (রাহুল এবং অক্ষয়) তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। ২০১৭ সালে ক্যান্সারে বিনোদ খান্নার মৃত্যুর পরও তার প্রথম পক্ষের দুই সন্তানের কেউই বাবার মুখাগ্নি করতে চাননি।

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj