রঙিন হাসির আড়ালে কত যে দুঃখ বোনা

শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯

হিথ লেজারের কথা মনে আছে। অস্ট্রেলীয় হলিউড অভিনেতা ২০০০ সালের ভ্যানিটি ফেয়ারের এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের নিয়ন্ত্রক আমি, হলিউডের কেউ নয়। মজা পাই বলেই আছি। যে দিন মজাটা আর থাকবে না, সে দিনই চলে যাবো’। এ সাক্ষাৎকারে ঠিক আট বছর পর পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। মৃত্যুর ঠিক কিছুদিন আগেই মুক্তি পায় তার কালজয়ী ‘জোকার’ চরিত্রের ছবি ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘দ্য ডার্ক নাইট’। আর প্রায় ১২ বছর মুক্তি পাওয়া টড ফিলিপস পরিচালিত জোকারকে দেখতে গিয়ে দর্শকদের মানসপটে ভেসে উঠছে হিথ লেজারের জোকার চরিত্রটি। হবেইবা না কেন কমিকবুকের ব্যাটম্যানের ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ বিকট দর্শন মুখশ্রীর এই জোকার চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে নিজেকে পুড়িয়ে ছিলেন ধূপের মতো করে। আর তাতেই খল চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও চলচ্চিত্র দর্শক মনে একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল সেই জোকার। বলা হয়ে থাকে এ চরিত্রই নাকি কেড়ে নিয়েছিল হিথ লেজারের জীবন প্রদীপ। ‘হিথ লেজার : টু ইয়াং টু ডাই’ নামের জার্মান তথ্যচিত্রেও এমনটাই দাবি করা হয়েছিল।

হিথ লেজার প্রসঙ্গ থেকে এবার আসা যেতে পারে টড ফিলিপসের জোকারে। গোথাম শহরের এক ব্যর্থ কমেডিয়ানের গল্প। বাংলায় যাকে আমরা বলি ভাঁড়। যে কিনা জীবনের পদে পদে মার খাওয়া ভিন্ন এক মানুষ। শিল্পীর সম্মানের বদলে অবহেলা-অশ্রদ্ধায় ঠকতে ঠকতে এক সময় উন্মাদ হয়ে যায়। মনের গহিন অন্তরে লুকিয়ে থাকা তার হতাশা আর যন্ত্রণা রূপ নেয় প্রতিশোধে। আর যা নিতে গিয়ে যে তার ঠোঁটের লাল রংয়ের মতোই রক্তে ভাসিয়ে দিতে চান তাবৎ দুনিয়া। এক পর্যায়ে নিজেই হয়ে পড়ে নৃশংস অপরাধী।

নতুন এই জোকারের নাম চরিত্রের অভিনয় করা অভিনেতা জোয়াকুইন ফনিক্স ভাসছেন প্রশংসার জোয়ারে। নিজেকে নিংড়ে বের করা বিস্ময়কর এই অভিনয়শিল্পী হলেন ডিসি কমিকস সিরিজের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সুপার ভিলেন চরিত্রের রূপদানকারী। ‘দ্য ব্যাটম্যান’ ছবির প্রতিশোধপরায়ণ তুখোড় খলনায়ক ছিলেন তিনি।

‘জোকার’ ডিসি কমিকস ইউনিভার্সের অংশ হলেও এ ছবিতে ব্যাটম্যান বা অন্য কোনো সুপার হিরোকে যুক্ত করা হয়নি। গল্প আবর্তিত হয়েছে শুধু জোকারকে কেন্দ্র করে। কমিকবুকের বিকটদর্শন মুখশ্রীর এই জোকার চরিত্রটি সারা বিশ্বের সিনেমা হলগুলোর দর্শদের পাশাপাশি মন কেড়ে নিয়েছে ঢাকার দর্শকদের।

১২২ মিনিটের ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয় ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে। আর আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায় ৪ অক্টোবর। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পায় ছবিটি। ছবির প্রিমিয়ারে জানানো হয়, এ ছবিতে নেই আগের কোনো ছবির প্রভাব। ৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ছবিটি এরই মধ্যে আয় করেছে ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার। সমালোচকরা চলচ্চিত্র জোকারকে দিয়েছেন গোল্ডেন এ প্লাস। আর আইএমডিবির টপ রেটিং উঠেছিল ৯এ। কোনো কোনো সমালোচক তো বলেই ফেলেছেন জোকারের অস্কার আটকায় কে! তবে এটা সত্য জোকার ছবিটি একটু হলেও মানুষকে চিন্তায় ফেলেছে। ছবিটা দেখার পর নীরবতা ভেঙে দর্শক মনে প্রশ্ন আসতেই পারে কি বলে গেল জোকার? উত্তরটাও ছবির সংলাপেই রয়ে গেছে- ‘আই জাস্ট ডোন্ট ওয়ান্ট টু ফিল সো ব্যাড এনিমোর’। এ তো বঞ্চিত সাধারণ মানুষেরই আর্তি।

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj