বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ

শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯

অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রক্রিয়ায় রাজধানী ঢাকায় বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা। এসব অবকাঠামোর জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্জ্য নিষ্কাশনের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। ফলে অসংখ্য মানুষের বাসগৃহ থেকে প্রচুর পরিমাণ গৃহস্থালি বর্জ্য প্রতিদিন এখানে-সেখানে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীতে কঠিন বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও সেকেলে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য পদার্থকে রাস্তার পাশে বা এখানে-সেখানে স্ত‚প করে রাখা হয় এবং তা পচে-গলে বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। বর্ষা মৌসুমে এ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বর্জ্যরে অনুপাতে উপযুক্ত সংখ্যক ডাস্টবিন না থাকা এবং জনগণের অভ্যাসগত কারণে ডাস্টবিন উপচে কঠিন বর্জ্য রাস্তার পার্শ্বস্থ ড্রেনে পড়ে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অচল করে দেয়। ঢাকায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে গাদাগাদি করে বসবাস করা অসংখ্য মানুষের বাসগৃহ থেকে বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি বর্জ্য প্রতিনিয়ত এখানে-সেখানে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থান থেকেও বিপুল পরিমাণ কঠিন ও তরল আবর্জনা প্রতিনিয়ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলছে।

একটি এলাকার কঠিন, আধা কঠিন ও তরল বর্জ্য-আবর্জনাকে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ অপসারণ সুনিশ্চিত করাই হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বর্জ্য পরিচালন (ধিংঃব সধহধমবসবহঃ)। বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন আবর্জনা সংগ্রহ, স্থানান্তর, প্রক্রিয়াকরণ এবং চূড়ান্ত অপসারণ কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পাদন করাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য। আর বর্জ্য আবর্জনাকে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে পরিবেশ সুরক্ষার অন্যতম প্রধান উপায়। কোনো একটি এলাকার জনস্বাস্থ্য, কারিগরি এবং অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সফল কার্যকারিতা নির্ভর করে। আঞ্চলিক পরিবেশ এবং এলাকার জনগণের প্রাত্যহিক জীবনযাপন পদ্ধতিও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত করে তোলার বিকল্প নেই। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরে খাল, নদীর মতো প্রাকৃতিক জলাধারগুলো শুকিয়ে গেছে অথবা অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে। ফলে তরল বর্জ্যরে অপসারণের স্বাভাবিক গতি সম্পূর্ণ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জের কঠিন বর্জ্যরে চেয়ে তরলবর্জ্য অপসারণ বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আরো নাজুক। সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশনের অভাবে দূষিত ভূপৃষ্ঠস্থ পানির প্রভাবে সেখানকার ভূগর্ভস্থ পানিও ধীরে ধীরে দূষিত হতে থাকে। এসব পানি পান করে পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঘটে। শহরাঞ্চলের বস্তিবাসী ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী বসবাসকারী এলাকার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। বাংলাদেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামের প্রতিটি অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বর্জ্যরে নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিতকরণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ
প্রকৌশলী, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার

বায়ুদূষণ রোধে করণীয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

রাষ্ট্রের স্বভাব ও চরিত্র

মাহফুজা অনন্যা

পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

Bhorerkagoj