ভূমি আইনের সংস্কার দরকার

শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০১৯

দেশ নতুন তৈরি যে কোনো আইনের সুস্পষ্টতা থাকার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তা না হলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লোক সাধারণ মানুষদের হয়রানি করার সুযোগ তৈরি করে। গত ৮ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশ, সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি বা স্থাপনাদি (দখল পুনরুদ্ধার) আইন ২০১৯-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এখন প্রশ্ন হলো দখলের সংজ্ঞা কী? প্রথম কোনো লোকের যদি সরকার কর্তৃক সেই জমির ওপর কোনো রকম মালিকানার প্রমাণ থাকে, তাকে অবৈধ বলা কি সমীচীন হবে আইনের দৃষ্টিতে? ওই সংবাদে প্রকাশিত, মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট দখল হওয়া নদীর জমি সিএস অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করতে হবে- এই মর্মে এক নির্দেশ দিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে নদীর জমির কথা উল্লেখ থাকলেও গত দুবছর আগে ঢাকার সাভারে সিএস অনুসরণ করে জমির জরিপ করা হয়। এতে বহু অসহায় মানুষের যুগ যুগ ধরে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাসরত ক্রয়কৃত জমি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নামে উঠে আসে।

সিএস অনুসরণ করে জমি জরিপ করলে জনগণকে হয়রানির মধ্যে ফেলা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। যদি এসএ নামজারি বা আরএস নামজারি থাকে, সরকারি খাজনা প্রদানের প্রমাণ থাকে, আর সেখানে সিএস অনুসরণ করে জরিপ করে মানুষকে হয়রানি করা হয় তবে এর সমাধান মিলবে কোথায়? কোনো জমি নামজারির সময়ে জমাভাগ ছাড়পত্রে, জমিতে সরকারের বা সরকারি কোনো সংস্থার আপত্তি নেই। এরপরও যদি সরকারি কোনো সংস্থা দাবি করে, সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সমাধান করতে হবে। নামজারির পরে জমির মালিককে হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। কোনো সরকারি সংস্থা যদি কোনো কায়দা তৈরি করে কোনো জমির মালিককে হয়রানির করে তাকে সুনির্দিষ্ট শাস্তির আওতায় আনার আইন রাখা উচিত। এ রকম আইন থাকলে দেখা যাবে জমি সংক্রান্ত মামলা কমে যাবে। কোনো জমি যদি সরকারি কোনো সংস্থার স্বার্থসংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে তবে সেই জমি কীভাবে সরকারি সাবরেজিস্ট্রারের অফিসে রেজিস্ট্রি হতে পারে? আর এ জন্য ওসব সংস্থার কোনো জবাবদিহিতা নেই, এটা হতে পারে না। টাকা সরকারি অফিসে জমা দিয়ে স্ট্যাম্প কিনে, নামজারি করে, প্রতি বছর সরকারকে খাজনা পরিশোধ করে যত হয়রানি জমির মালিককে পোহাতে হয়, এভাবে আর কত দিন?

জমি ক্রয়ের পর সরকারি কোনো সংস্থা জমি আমার বলে দাবি করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। দেশে দুই কোটি মামলার ৮০ ভাগ মামলাই ভূমিকেন্দ্রিক। অনেকের মামলা নিয়েই জীবনের সমাপ্তি ঘটে। এখন মোদ্দাকথা হলো, সরকারের যে কোনো সংস্থার জমি দাবি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি সেই জমিতে ওই সংস্থার মালিকানার কোনো প্রমাণ না থাকে। সেখানে কাগজের বলে জমির মালিককে মেনে নেয়া উচিত। সাধারণ মানুষের জমিসংক্রান্ত এই হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সরকারি সব সংস্থার জমির তালিকা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে থাকা দরকার। এরপরও যদি কোনো সরকারি জমি কোনো ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি হয়, সে ক্ষেত্রে সাবরেজিস্ট্রারকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। সাবরেজিস্ট্রারের কার্যাবলির জবাবদিহিতা থাকলে জমি সংক্রান্ত মামলা অনেক কমে যাবে। সাধারণ জনগণকে দীর্ঘকালের এই নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে হবে।

সাঈদ হোসেন
প্রবাসী লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার

বায়ুদূষণ রোধে করণীয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

রাষ্ট্রের স্বভাব ও চরিত্র

মাহফুজা অনন্যা

পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

Bhorerkagoj