গ্যাস সিলিন্ডার যখন মৃত্যুফাঁদ : আদর্শ মান ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত জরুরি

শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০১৯

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ি কিংবা যানবাহনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রায়ই ঘটছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। গত বুধবার রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে একটি বিদ্যালয়ের সামনে বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১৪ জন। চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মিরপুর এলাকায় বিদ্যালয়ের সামনে বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। ভুক্তভোগীদের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার আবির্ভূত হচ্ছে ‘মৃত্যুদূত’ হয়ে। তবে সিলিন্ডারের এমন মর্মন্তুদ দুর্ঘটনার দায় নিচ্ছে না কেউ। এসব ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও কারো সাজা পাওয়ার পরিসংখ্যান নেই পুলিশ সদর দপ্তরে। তদারক সংস্থা এর জন্য ব্যবহারকারীর অসচেতনতাকেই দায়ী করেছে। তবে শুধু অসচেতনতাই নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন সিলিন্ডার তৈরি ও সরবরাহ এবং নিয়মিত মনিটরিং না করাকেও দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিস্ফোরক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে প্রায় ৯০ লাখ এলপিজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সিলিন্ডার রয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজি (সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস) সিলিন্ডার আছে প্রায় চার লাখ। রি-টেস্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বাতিল হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার এলপিজি ও ২০০ থেকে ৩০০ সিএনজি সিলিন্ডার। বাজারে নিম্নমানের ও পুরনো সিলিন্ডার ছড়িয়ে পড়েছে। এটি বিপজ্জনক। কিছুটা কম দামে পাওয়া যায় বলে অনেক গ্রাহক এমন নিম্নমানের সিলিন্ডারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। আবার অনেক ক্রেতা নিরাপত্তা সিল না দেখেই নিম্নমানের সিলিন্ডার বেশি দামে কিনছেন। কিন্তু ব্যবহার শুরুর দুয়েক বছর পর এসব সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হচ্ছে। বর্তমানে এলপিজি গ্যাস বাজারের ৮০ ভাগের নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তি খাতের হাতে। আলোচ্য খাতের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এলপিজি গ্যাস সমুদ্রপথে আমদানির পর সিলিন্ডারে ভর্তি করে বিপণন করছে। গ্যাসভর্তি এসব সিলিন্ডার বাজারে সরবরাহ এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে রয়েছে গুরুতর অনিয়ম। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনার কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রচুর প্রাণহানিও হচ্ছে। তারপরও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন হচ্ছে, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজর আছে বলে মনে হয় না। দেখা যায়, কোনো দুর্ঘটনার পর সাধারণত কর্তৃপক্ষ, হোতাদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কমিটি কিছুদিন বেশ সরব থাকে। পরে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। আমরা মনে করি, জরুরিভাবে সারাদেশে ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারগুলো চিহ্নিত করা দরকার। এ জন্য ভোক্তাদের যেমন সচেতন করতে হবে, তেমনি সরকারিভাবে সিলিন্ডার টেস্ট ও বদলে নেয়ার সেবা চালু করতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনাসহ যে কোনো দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতাই আমাদের একমাত্র ভরসা। সিলিন্ডারের আদর্শ মান ও নিরাপদে ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো অধিক দায়িত্বশীল হওয়া আবশ্যক।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj