সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৯

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি। শহরের কোলাহল আর যান্ত্রিকতা থেকে দূরে অবস্থিত এ ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এক অপরূপ ও অনন্য নৈস্বর্গ। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ বিদ্যাপীঠ যেন প্রকৃতি আর মানব প্রাণের মেলবন্ধন। সবুজ বৃক্ষসারির ওপর উড়ন্ত বিচিত্র রঙের হরেক রকম পাখি, সবুজ পাহাড়ের কোলে থাকা হরিণ, অজগর কিংবা বিচিত্র আর দুর্লভ প্রাণীর জীবন্ত জাদুঘর চবি ক্যাম্পাস। ঝুলন্ত সেতু, ঝর্ণাধারা, উদ্ভিদ উদ্যান, জাদুঘর, রহস্যময় চালন্দা গিরিপথ কিংবা সুবিশাল মাঠ কি নেই চবি ক্যাম্পাসে! এসবের মায়াবি সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন চবি ক্যাম্পাসে। ষড়ঋতুর পালাবদল হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায় চবি ক্যাম্পাসে। গ্রীষ্মের আগমনে রুক্ষ প্রকৃতি। হঠাৎ সবুজ পাহাড় ঘিরে কালো মেঘের আনাগোনা আর কালবৈশাখী ঝড়, বর্ষার আগমনে প্রকৃতির সতেজতা লাভ, শরতের কাশফুল, হেমন্তের সোনালী ধান কিংবা ঋতুরাজ বসন্তে ফোঁটা ফুল সবই দেখা যায় চবি ক্যাম্পাসে থেকে কিংবা গিয়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই বিশ^বিদ্যালয় ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর হাটহাজারিতে ১ হাজার ৭৫৩ একর পাহাড়ি এবং সমতল ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

চবি ঝর্ণা : কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক পাহাড়ি ঝর্ণা। পাহাড় থেকে নেমে আসা জলরাশির খেলা ও ঝর্ণার পাশের দৃশ্য দেখতে আসা প্রকৃতিপ্রেমিদের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই স্থানটি।

ঝুলন্ত সেতু : রাঙামাটির সৌন্দর‌্যও দেখা যায় চবি ক্যাম্পাসে। রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর মত চবিতেও রয়েছে হৃদয়কাড়া ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের কাছে অবস্থিত।

ক্যাফেটেরিয়া : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। একটি চাকসু ভবনের নিচ তলায় আরেকটা আইটি ফ্যাকাল্টিতে। সারাদিন শিক্ষার্থীদের কোলাহলে ব্যস্ত থাকে ক্যাফেটেরিয়াগুলো।

শাটল ট্রেন : চবির বড় বিশেষত্ব হলো শাটল ট্রেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে এটি। ক্যাম্পাস শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য শাটলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন ১৫-১৬ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের মাধ্যম এই শাটল ট্রেন। পৃথিবীতে একমাত্র চবিতে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন এখনো চলাচল করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বলা হয় শাটল ট্রেনকে। চবি শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবনের অপরিহার্য অংশ এই শাটল ট্রেন ভ্রমণ। ঘুরতে আসা অনেকেই শাটলের প্রেমে পড়েন। শাটল ট্রেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করেছে। শাটল নিজেই একটা বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রন, যা দিয়ে যাত্রাপথে অবিরত ড্রাম বাজিয়ে গানের ছন্দের তালে তালে পাড়ি জমায় শিক্ষার্থীরা। গান, আড্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এই ট্রেনের বগিতে গান করে অনেকেই হয়েছেন বিখ্যাত গায়ক।

শহীদ মিনার : বুদ্ধিজীবী চত্বরের বিপরীত পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অবস্থিত। এটি ১৯৯৩ সালে স্থাপিত।

কাটাপাহাড় : প্রধান ফটক থেকে সামনের দিকে বিশাল পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বিস্মৃত পিচঢালা রাজপথ, যার নাম কাটা পাহাড়। দুপাশে সুউচ্চ পাহাড় মাঝখান দিয়ে রাস্তা, একটু পরপর যাত্রী ছাউনি এবং পাহাড়ের উঁচু উঁচু টিলাতে, গাছ-গাছালিতে নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী এবং মায়া হরিণের লুকোচুরি সত্যিই দর্শনার্থীর মুহূর্তেই নজর কেড়ে নিতে সক্ষম। কাটা পাহাড় দিয়ে সামনে হাঁটলে প্রথমে রাস্তার বাম পাশে তাকালে চোখে পড়বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির অফিস। ঠিক তার ডান পাশে নান্দনিক নকশায় গড়া বাণিজ্য ভবন এবং সামনের দিকে একে একে শহীদ মিনার, বুদ্ধিজীবী চত্বর, গ্রন্থাকার চত্বর, আইটি ভবন, জাদুঘর, মুক্তমঞ্চ, কলা অনুষদ, জারুলতলা, চাকসু এবং জনপ্রিয় কলা অনুষদের ঝুপড়ি।

স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরাল : বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সামনে ভাস্কর্যটির অবস্থান। খ্যাতিমান শিল্পী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক মুর্তজা বশীরের একক প্রচেষ্টায় এটি নির্মিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সৈয়দ সাইফুল কবীর ভাস্কর্যটির নকশা করেন। ভাস্কর্যটিতে ৪টি পাখির প্রতীকী নির্মাণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাঙালির ছয়দফা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্রমধারা। পাখির ম্যুরালের ডানায় ২১টি পাথরের টুকরায় লিপিবদ্ধ হয় ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি। ভাস্কর্টির মূল ভিত্তি রচিত হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলার ওপর।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj