সাকিবের শাস্তি কমাতে আইসিসি পুনর্বিবেচনা করুক

বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সাকিবকে দেয়া এ দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে দুভাবে। এক বছরের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবেন দেশসেরা এ অলরাউন্ডার। আর বাকি এক বছর তার শাস্তি স্থগিত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অন্য কোনো অপরাধ না করলে পরবর্তী এক বছর সাকিবের আর কোনো শাস্তি কার্যকর হবে না। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরের পর থেকে সব ধরনের ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব। এই নিষেধাজ্ঞায় ধাক্কা খেয়েছে ক্রিকেটবিশ্ব। যে ঝড় উঠেছে তা স্বাভাবিকভাবেই লেগেছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। একই সঙ্গে আমরাও ব্যথিত। আইসিসির অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাকিব বড় ধরনের অপরাধ করেননি তবে ভুল করেছেন। ভুলের মাসুল আরো কম হতে পারত। সাকিব আল হাসান অত্যন্ত অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। যেহেতু সাকিব ক্রিকেট বিশে^ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন সেহেতু নিষেধাজ্ঞা কমানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নিতে পারে আইসিসি। আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে; ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ২০১৮ সালে আইপিএলের সময় জুয়াড়িদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবের কথা আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (এসিইউ) কাছে জানাননি সাকিব। একই বছর ত্রিদেশীয় সিরিজেই তার সঙ্গে জুয়াড়িরা দ্বিতীয়বার যোগাযোগ করলেও সেটি দ্বিতীয়বার এসিইউর কাছে বিস্তারিত জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের একটি ম্যাচের আগে সাকিবকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। সেটিও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, সাকিব কোনো অপরাধ করেননি, তিনি ভুল করেছেন। সাকিব আল হাসান সব ক’টির দায় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং আইসিসির দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে দেয়া সব শাস্তি মেনে নিয়েছেন। যদি নিষেধাজ্ঞার সময় শাস্তির সব বিধিবিধান মেনে চলেন, তবে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ। কিন্তু সাকিব কোনো অপরাধ করেননি। বরং অপরাধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে সে বিষয়টি গোপন রেখে ভুল করেছেন। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে তা আইসিসিকে অবহিত করেননি। আর তাতেই ২ বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়া নিয়ে আন্তর্জাকিত ক্রিকেট মহলেও আলোচনা হচ্ছে। এমন শাস্তি মানতে পারছেন না দেশের ক্রিকেট ভক্তরা। তারা মনে করছেন লঘু পাপে গুরু দণ্ড দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করব, সাকিবের শাস্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে আইসিসি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj