বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৯

সম্প্রতি বাংলাদেশ নারী ফুটবলারদের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো। নারী ফুটবল দল একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে। যা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চোখ এড়ায়নি। ফুটবলপ্রেমীদের মতে বাংলাদেশে নারী ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। বাংলাদেশ সফরে এসে মেয়েদের ফুটবলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উন্নয়ন সম্পর্কে ইনফান্তিনো বলেছেন, মেয়েদের ফুটবলে বিনিয়োগ করতে আমি উৎসাহিত করি। কেননা মেয়েদের ফুটবলে প্রতিদ্ব›িদ্বতাটা এখনো অতটা কঠিন নয়। ইউরোপে ছেলেদের ফুটবল যতটা কাঠামোবদ্ধ, মেয়েদের ফুটবল ততটা নয়। তাই মেয়েদের ফুটবলে তুলনামূলক দ্রুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ আছে। আর আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ তা পারবে।

অথচ কয়েক বছর আগেও এ দেশের নারী ফুটবল নিয়ে হাসাহাসি হতো বিস্তর। এখন তাদের নিয়ে সুনীল স্বপ্ন দেখে এ দেশের ভক্ত-সমর্থকরা। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের হাত ধরেই অনেক দূর এগিয়েছেন মারিয়া, তহুরা-আঁখি খাতুনরা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে ছোটনের চাকরি হয় ২০০৬ সালে। এরপর ২০০৮ সালে জাতীয় ফুটবল দলের সহকারী কোচ ছিলেন তিনি। মেয়েদের ফুটবলে সাবেক এ ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০০৯ সালে। ২০১০ সালে সিনিয়র নারী ফুটবল দলের সহকারী কোচ ছিলেন ছোটন। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ নারী আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে তার অধীনে বাংলাদেশ হয়েছিল তৃতীয়। ২০১৫ সালে কোচ হিসেবে শিরোপা জয়ের প্রথম আনন্দে মেতে উঠেছিলেন তিনি। নেপালে অনুষ্ঠিত নারী অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর জাতীয় কিংবা বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। দুই বছর আগে ভারতে প্রথমবারের মতো সিনিয়র সাফের ফাইনালে সাবিনা-কৃষ্ণাদের খেলা সম্ভব হয়েছে এই কোচ ছোটনের অধীনে। কদিন আগে ভুটানের থিম্পুতে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অল্পের জন্য হাত ছাড়া করেছে বাংলাদেশ। তবে শিরোপা না জিতলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন লাল-সবুজ দলের রুপনা চাকমা।

নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন উজ্জ্বল হলেও শুরুটা এত ভালো ছিল না। ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে মেয়েদের ফুটবল শুরু হলেও ২০১০ সালের এসএ গেমসের আগে জাতীয় দলের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এসএ গেমসেই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হারলেও সেই টুর্নামেন্টে দুটি ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ।

::কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj