মায়েদের নিয়ে কাজ করে বিশ^দরবারে : এ এইচ এম নোমান

সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

এ এইচ এম নোমান। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘র্ডপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা। যার উদ্ভাবনী এক কার্যক্রম দেশের লাখ লাখ মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। লাল-সবুজের বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন বিশ^দরবারে। মায়েদের নিয়ে কাজ করে পেয়েছেন ‘মাতৃবন্ধু’ খেতাব। বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি পেয়েছেন ‘গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার-২০১৩’। এ ছাড়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পদক ও সম্মাননা তিনি পেয়েছেন। তবে মায়েদের মুখে হাসি ফোটানোকেই নিজের কাজের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি। পান কাজের উৎসাহ।

শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালে। বিশ্ব মা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘র্ডপ’ দারিদ্র্য নিরসনে তাদের কর্ম- এলাকায় যেসব মা গর্ভধারণ করেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১০০ জন অতিদরিদ্র মাকে চিহ্নিত করে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার ঘোষণা দেয়। দেশের দারিদ্র্য হ্রাসকরণে এটি নতুন উদ্ভাবনী ও প্রথম উদ্যোগ। সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা সুস্থ শিশু ও গর্বিত মা পাওয়ার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা অনস্বীকার্য। যা একদিকে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যসেবা ও সঠিক পুষ্টিগত অবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মায়ের মর্যাদা অক্ষুণœ রাখতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে সন্তানও দীর্ঘ দুই বছর সুস্থ মায়ের দুধ পান ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবে তথা পারিবারিক সম্প্রীতি সংরক্ষিত হবে। সর্বোপরি জাতি একটি সুস্থ কর্মক্ষম প্রজন্ম উপহার পাবে। দরিদ্র মায়েদের ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ প্রদান একটি নতুন ইতিহাস।

এ প্রসঙ্গে এ এইচ এম নোমান বলেন, দৌলতখাঁর মাটি ও মানুষের মালিকানা, নদী ভাঙাগড়ার নিষ্ঠুর খেল-তামাশা দেখেই সম্ভবত গরিব মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার চিন্তা মাথায় আসে। আমার বিশ্বাস, এই উদ্যোগটি আমার জন্য আল্লাহপাকের এক অনন্য অবদান। আমি নদীভাঙা এলাকার লোক বলেই হয়তো আমার মনে অসহায় গরিব-দুঃখী মায়েদের কষ্ট কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পেরেছি। তা না হলে পুরুষ হয়ে নারীদের প্রসব বেদনা বা এই বিষয়ে আমার মতো অখ্যাত লোক দিয়ে এই উদ্যোগ হবে কেন?

নোমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশের দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কার্যক্রম চালু করে। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এই ভাতা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পর্যায়ক্রমে সুবিধাভোগী ও ভাতার অর্থ বাড়তে থাকে। মায়ের গর্ভে বাচ্চা আসা থেকে শুরু করে বুকের দুধ খাওয়া পর্যন্ত ২৪ মাস পরিকল্পিত পরিবার গঠনে মায়েরা এই ভাতা পাচ্ছে।

মাতৃত্বকালীন ভাতা বাস্তবায়নের পর পুনরায় মায়েদের কেন্দ্র করে তিনি দারিদ্র্যমোচনের জন্য শুরু করেন স্বপ্ন প্যাকেজ নামে আরেকটি কার্যক্রম। সোশ্যাল এসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম ফর নন এসেটার্স-‘স্বপ্ন’ প্যাকেজ কার্যক্রমটি মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা-বাবা-শিশুকেন্দ্রিক ৫ ভিত্তি সংবলিত সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম। স্বপ্ন প্যাকেজে রয়েছে-স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্ড, শিক্ষা ও বিনোদন কার্ড, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিনসহ একটি ঘর, জীবিকায়ন সরঞ্জাম, সঞ্চয়, বনায়ন ও প্রয়োজনে উন্নয়ন ঋণ। তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে সরকার ২০১৪-১৬ দুই অর্থবছরে ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ করে। এ উন্নয়ন মডেলটিও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর দেশের সাতটি বিভাগের বেশ কয়েকটি উপজেলায় বাস্তবায়ন করেছে। র্ডপ-এ কাজের সমন্বয় ও সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করছে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj