স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার নিয়ে অচলায়তন ভাঙছেন : ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার

সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

সংকোচের বিহŸলতায় যে কথাটি দীর্ঘকাল ছিল প্রায় অনুচ্চারিত, তা নিঃসংকোচে প্রকাশের দুরন্ত সাহস জোগানোর এক আন্দোলনে নেমেছেন ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও ক্যান্সার ইপিডিমিওলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মায়ের কাছে সন্তানের ঋণ স্মরণে ২০০৬ সাল থেকে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার নিয়ে অচলায়তন ভাঙার কাজ করে চলছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতি বছর কয়েক হাজার নারী স্তন এবং জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। অথচ এই রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অল্প চিকিৎসাতেই নিরাময় সম্ভব। বাধা হয়ে আছে অকারণ লজ্জা আর সংকোচ। তাই পরিবারের কাছের মানুষটিও জানতে পারেন না সময়মতো। সামান্য ব্যবস্থায় যে রোগটি থেকে মুক্তি সম্ভব, অবহেলায় তাই রূপ নেয় আগ্রাসী ক্যান্সারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তখন ঘটে অকাল মৃত্যু। ক্যান্সার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এক সময় মনে হলো, নারীদের ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো উচিত। অস্বীকার করার উপায় নেই, আমরা পুরুষরা, নিজেদের অসুখ-বিসুখে যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হই, পরিবারের নারী সদস্যের বেলায় তেমন গা করি না। এর সঙ্গে আত্মঘাতী সংকোচ। এখানেই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম নারীর ক্যান্সার নিয়ে আলাদা কাজ করার। প্রথমে শুরু করলাম দেশের নারীদের ক্যান্সারের শীর্ষে থাকা স্তন ক্যান্সার নিয়ে।

তিনি জানান, ২০১৫ সালের শেষের দিকে হাতে নেন নতুন কর্মসূচি। জানুয়ারি মাসকে জরায়ু মুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয় বিভিন্ন দেশে। ২০১৬ সাল থেকে জানুয়ারি মাসব্যাপী সভা-সেমিনারের পাশাপাশি একটি নতুন উপাদান যোগ করা হয়। জননীর জন্য পদযাত্রা। মার্চ ফর মাদার। সবাইকে জাগিয়ে তোলার জন্য লিখলেন দুটি চরণ : ‘জননীর কাছে সবার আছে জন্মঋণ/ জরায়ু মুখের ক্যান্সার সচেতনতায় অংশ নিন।’ অভূতপূর্ব সাড়া পেলেন। ঢাকায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সের নারী-পুরুষের বিপুল উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে থাকল জননীর জন্য পদযাত্রা। ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তি বাড়তে থাকল। দেশের গণমাধ্যম প্রথম থেকেই এই সামাজিক আন্দোলনে শামিল হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি সবার দৃষ্টি ফেরানো। এর সঙ্গে ঘাতক অথচ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যান্সার নিয়ে যে চ্যালেঞ্জের জায়গাগুলো, তাকে ঠিকভাবে উপস্থাপন ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জনমত গড়ে তোলা। সর্বোপরি, নারীকে তার নিজের শরীরের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন করা। আমাদের অধিকাংশ নারী এসব বিষয়ে উদাসীন থাকেন। এক্ষেত্রে তাদের অচলায়ত ও সংকোচের বিহŸলতা কাটাতে হবে। যে অঙ্গে মা তার সন্তানকে ধারণ করেন, তার নাম জরায়ু। ভূমিষ্ঠের পর শিশুর প্রথম পুষ্টি আসে মায়ের যে অঙ্গ থেকে, তার নাম স্তন। এই দুটি অঙ্গ নিয়ে আর কোনো লজ্জা নয়। এর সুস্থতা নিয়ে নারীকে কথা বলার সাহস জোগানোর দায়িত্ব প্রতিটি পুরুষের।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj